বৃষ্টিতে পাহাড়ধসের আশঙ্কা, ঝুঁকিতে হাজার মানুষ

আপডেট : ০৮ জুলাই ২০২৬, ০৫:০৮ পিএম

অবিরাম বৃষ্টিতে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে পাহাড়ধসের আশঙ্কা। এই শঙ্কার মধ্যে চট্টগ্রামের আনোয়ারার দেয়াঙ পাহাড়ে মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়ে হাজার হাজার মানুষ বসবাস করছে। তবে ঝুঁকিপূর্ণ এসব বসবাসকারী মানুষের প্রকৃত সংখ্যা জানা নেই।

স্থানীয়দের দাবি,উপজেলার বৈরাগ ইউনিয়নের বদলপুরা গ্রামের এ পাহাড়ে কমপক্ষে ৩০০ পরিবার জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছেন।

সংশ্লিষ্টরা জানায়,পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারীদের প্রকৃত সংখ্যা জানা মুশকিল। কারণ যারা পাহাড়ে বসবাস করেন তারা অবৈধভাবে থাকছেন। তাদের সংখ্যাও প্রতিনিয়ত বাড়ছে।

পাহাড়ে বসবাসরতদের ভাষ্য, নিজেদের বাড়িভিটি না থাকায় তারা দীর্ঘদিন ধরে পাহাড়ে বসতি গড়েছেন। আবার অনেককেই কোরিয়ান ইপিজেডের জায়গা থেকে সরিয়ে দেওয়ায় তারাও এখানে বসবাস করছেন।

এদিকে, প্রতিবছর বর্ষা এলে পাহাড়ে বসবাসকারীদের সতর্ক করতে তোড়জোড় শুরু করে উপজেলা প্রশাসন। কিন্তু তাতেও থামছে না ঝুঁকিপূর্ণ বসবাস। এরপর আবহাওয়া অনুকূলে এলে আবারও সেখানে ফিরে যান বসবাসকারীরা। স্থায়ী পুনর্বাসন ও দখলদারদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ না থাকায় দিন দিন বসতির সংখ্যা বাড়ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগে জানা গেছে,পাহাড়ে অনেকেই রাজনৈতিকভাবে দখল করে সেখানে ঘর তৈরি করে ভাড়া দিয়ে রেখেছে প্রভাবশালীরা। পাহাড়ের এসব ঘরে ভাড়া কম হওয়ায় নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো পাহাড়ে বসবাসে ঝুঁকেছে। স্থায়ী ও কঠোর কোনো উদ্যোগ না থাকায় দিন দিন এ ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ বসতি বাড়ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মো.ইসহাক ও মো. তৈয়ব জানান, প্রত্যকবার বর্ষা মৌসুমে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সতর্কতা জারি করা হলেও এ বছর তা করা হয়নি। তারপরও আমরা নিজেরাই সতর্কতার সহিত বসবাস করছি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন,এভাবে পাহাড় থেকে অবৈধ বসতি সরানো এবং পাহাড় রক্ষা কোনটাই সম্ভব না। পাহাড় রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ না নিয়ে শুধু বর্ষা এলেই কিছু পদক্ষেপ নিয়ে দায় সারছে প্রশাসন।

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য মোরশেদ আলম বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ বসবাস রোধ করতে বিষয়টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। তবে এখন যারা বসবাস করছে তারা ঝুঁকিমুক্ত আছে। তারপরও তাদেরকে পাহাড়ধসের বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে। তাছাড়া পাহাড়ে যারা বসবাস করছেন, তাদের অনেকেরই ঘরবাড়ি নেই। তাই তাদের স্থায়ী পুনর্বাসনের ব্যবস্থাও করতে হবে।

এবিষয়ে জানতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মহিন উদ্দিনের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত