ন্যাটোর অভ্যন্তরীণ নানা মতপার্থক্য ও উত্তেজনার মধ্যেও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের তুরস্ক সফরকে প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আঙ্কারায় অনুষ্ঠিত ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলন উপলক্ষে ট্রাম্পকে বর্ণাঢ্য অভ্যর্থনা জানায় তুরস্ক। লাল, সাদা ও নীল রঙের বিমান কসরত প্রদর্শনের পাশাপাশি বিমানবন্দরের একটি নতুন ভবনের নাম ট্রাম্পের নামে রাখা হয়। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার বার্তা দেয় আঙ্কারা।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বিমানবন্দরে ট্রাম্পকে স্বাগত জানান এরদোয়ান। পরে দুই নেতা ঘনিষ্ঠভাবে সময় কাটান। ট্রাম্প এরদোয়ানকে তাঁর 'প্রিয় বন্ধু' বলে উল্লেখ করেন এবং প্রতিশ্রুতি দেন, তাঁর প্রথম মেয়াদে তুরস্কের ওপর আরোপ করা মার্কিন নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হবে। ২০১৯ সালে রাশিয়ার কাছ থেকে এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার জেরে ওই নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল, যা দুই দেশের সম্পর্কের অন্যতম সংকটময় অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হয়।
দুই দিনের সম্মেলজুড়ে দুই নেতার সম্পর্ক আরও উষ্ণ হয়ে ওঠে। ট্রাম্প জানান, তিনি তুরস্কের কাছে যুদ্ধবিমান বিক্রির বিষয়ে ইতিবাচক। যদিও পরে তিনি বলেন, এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি। সম্মেলনের বিভিন্ন আয়োজনে দোভাষীর মাধ্যমে আলাপচারিতার সময় ট্রাম্প ও এরদোয়ানকে হাস্যোজ্জ্বল ও আন্তরিক পরিবেশে দেখা যায়।
দীর্ঘদিন ধরেই ট্রাম্প অভিযোগ করে আসছেন, ন্যাটোর সদস্য দেশগুলো প্রতিরক্ষা ব্যয়ে যথেষ্ট অবদান রাখছে না। সম্মেলনে তিনি বলেন, মূলত এরদোয়ান আয়োজক হওয়াতেই তিনি এবারের ন্যাটো সম্মেলনে অংশ নিয়েছেন। সম্মেলন শেষে এরদোয়ান বলেন, 'ট্রাম্প আমাদের বন্ধুত্ব এবং আমার প্রতি যে গুরুত্ব দিয়েছেন, তা অত্যন্ত মূল্যবান। আমি আমার প্রিয় বন্ধুকে আবারও ধন্যবাদ জানাই।'
এখন পর্যন্ত বড় কোনো নীতিগত পরিবর্তন না এলেও, ট্রাম্পের বক্তব্য ও প্রতিশ্রুতিগুলো তুরস্ক-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের উন্নতির সম্ভাবনা তৈরি করেছে। বিশেষ করে সম্প্রতি তুরস্কের রাষ্ট্রীয় ব্যাংক হাল্কব্যাংক-কে ঘিরে দীর্ঘদিনের একটি ফৌজদারি মামলার নিষ্পত্তির পর দুই দেশের সম্পর্কে ইতিবাচক পরিবেশ আরও জোরদার হয়েছে বলে কূটনৈতিক মহল মনে করছে।