ইনফান্তিনোকে ফিফা প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী করার চুক্তি!

চলতি ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও মার্কিন স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগুনের লাল কার্ড বাতিল নিয়ে তৈরি হওয়া তীব্র বিতর্কের মাঝেই এক বিস্ফোরক তথ্য সামনে এসেছে। জানা গেছে, এই সততার বিতর্ক শুরুর  আগেই ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর ২০২৭ সালের পুনর্নির্বাচন প্রক্রিয়াকে আনুষ্ঠানিকভাবে সমর্থন করার চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিয়েছিল ইংল্যান্ডের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন।

ফিফার অভ্যন্তরীণ সূত্রর বরাত দিয়ে বৃটিশ দৈনিক টেলিগ্রাফ জানিয়েছে, শীর্ষস্থানীয় ফুটবল খেলুড়ে দেশগুলোকে গোপনে ইনফান্তিনোর প্রার্থিতাকে সমর্থন জানিয়ে চিঠি দেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছিল। এফএ বিগত মাসগুলোতে এই অনুরোধে সম্মতি জানায় এবং বিশ্বকাপ শুরু হতেই সমর্থনের চিঠিটি পাঠানোর কথা ছিল। তবে বর্তমান ট্রাম্প কেলেঙ্কারি ফাঁসের পর এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি ব্রিটিশ ফুটবলের এই সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থা।

বর্তমানে যুক্তরাজ্যের হাউস অব কমন্স থেকে শুরু করে এফএ-র সাবেক চেয়ারম্যান ডেভিড বার্নস্টেইন পর্যন্ত সবাই যেখানে ফিফা প্রধানের পদত্যাগ দাবি করছেন, সেখানে এফএ বজায় রেখেছে রহস্যময় নীরবতা। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর পেছনে রয়েছে বড় দুটি স্ট্র্যাটেজিক কারণ:

নারী বিশ্বকাপ ২০৩১-এর স্বাগতিক হওয়া: আগামী নভেম্বরেই নারী বিশ্বকাপের স্বাগতিক দেশের নাম ঘোষণা করার কথা রয়েছে, যেখানে ইংল্যান্ড অন্যতম শক্ত দাবিদার। ইনফান্তিনোকে চটালে এই সুযোগ হাতছাড়া হতে পারে।

ভবিষ্যত একক বা যৌথভাবে পুরুষদের ফুটবল বিশ্বকাপ আয়োজনের বিডে ফিফা প্রধানের সরাসরি সমর্থন প্রয়োজন হবে ইংল্যান্ডের।

সমালোচনা সত্ত্বেও ২০২৭ নির্বাচনে ইনফান্তিনোর অবস্থান কতটা শক্ত?

বিগত ১০ বছর ধরে ফিফার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। ২০১৯ এবং ২০২৩ সালের মতো ২০২৭ সালের নির্বাচনেও তার বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হওয়া প্রায় নিশ্চিত।

ফিফার মোট ২১১টি সদস্য দেশের মধ্যে জয়ের জন্য প্রয়োজন ১০৬টি ভোট। ট্রাম্পের সঙ্গে এই বিতর্কিত ঘটনার পরও ইনফান্তিনোর ঝুলিতে ইতিমধ্যেই কনমেবল (দক্ষিণ আমেরিকা), ক্যাফ (আফ্রিকা) এবং এএফসি (এশিয়া) এর তরফ থেকে প্রায় ১১১টি নিশ্চিত ভোট রয়েছে। ফলে ব্রিটিশ এমপি এবং ফুটবল বোদ্ধাদের পদত্যাগের দাবির মুখে পড়লেও, বিশ্ব ফুটবলের এই প্রভাবশালী নেতার ক্ষমতা এখনই নড়েচড়ে বসার কোনো লক্ষণ নেই।