জিম্বাবুয়ে সফরে সময়টা একেবারেই ভালো যাচ্ছে না বাংলাদেশ দলের। ব্যাটারদের ব্যর্থতায় একমাত্র টেস্ট আড়াই দিনে হারের পর ৩ ম্যাচ সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতেও হারে সফরকারীরা। গতকাল সিরিজ বাঁচাতে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে মাঠে নামেন লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। হারারেতে আগে ব্যাট করে বেন কারেনের সেঞ্চুরি ও ব্র্যাড ইভান্সের ৩৮ বলে অপরাজিত ৫৮ রানের ঝোড়ো ইনিংসের সৌজন্যে ৬ উইকেটে ২৪৭ রান করে স্বাগতিকরা। এই ম্যাচেও ব্যর্থ বাংলাদেশের ব্যাটিং বিভাগ। লক্ষ্য তাড়ায় ২৩৪ রানে অলআউট হন মেহেদী হাসান মিরাজরা। এতে ১৩ রানে জয়ের পাশাপাশি এক ম্যাচ হাতে রেখে সিরিজ জয়ও নিশ্চিত করে জিম্বাবুয়ে।
প্রথম ওয়ানডের মতো গতকালও টস জিতে স্বাগতিকদের ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানিয়ে বল হাতে ভালো শুরু পায় বাংলাদেশ দল। ইনিংসের প্রথম ওভারে ওপেনার ব্রায়ান বেনেটকে (০) বোল্ড করেন তাসকিন আহমেদ। তৃতীয় ওভারে ইনোসেন্ট কাইয়াকে (৪) ফেরান এই ডানহাতি পেসার। এই চাপ সামলানোর চেষ্টায় ব্যর্থ হন ক্রেইগ আরভিন (৯), তাকে থামান নাহিদ রানা। পাওয়ার প্লের ১০ ওভারে এই তিন ব্যাটারকে হারিয়ে ৩৭ রান তোলে জিম্বাবুয়ে। অবশ্য অন্য প্রান্ত ধরে খেলেন কারেন। চতুর্থ উইকেটে ওয়েসলি মাধেভেরের সঙ্গে ৩২ রানের জুটি গড়ে শুরুর ধাক্কা সামাল দেন তিনি। তবে মাধেভেরেকে (১৫) থিতু হতে দেননি মিরাজ।
পঞ্চম উইকেটে সিকান্দার রাজাকে নিয়ে সফরকারী বোলারদের শাসন করেন কারেন। এই জুটিতে আসে ৬৮ রান। বাংলাদেশ অধিনায়কের দ্বিতীয় শিকার হয়ে রাজা (৩৩) সাজঘরে ফিরলেও বড় সংগ্রহ পায় স্বাগতিকরা। এরপর ক্লাইভ মাডান্ডে দ্রুত আউট হলেও ব্র্যাড ইভান্সকে সঙ্গে নিয়ে রান বাড়ানোর পাশাপাশি ব্যক্তিগত সেঞ্চুরি তুলে নেন কারেন। ওয়ানডেতে এটি তার দ্বিতীয় শতক। সপ্তম উইকেটে দুজনের ৯৯ রানের অবিচ্ছেদ্য জুটির পাশাপাশি কারেনের ১৩৫ বলে ১১১* রানের ইনিংসের সঙ্গে ইভান্সের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের প্রথম ফিফটিতে চ্যালেঞ্জিং পুঁজি পায় জিম্বাবুয়ে। যেখানে তাসকিনের করা ইনিংসের শেষ ওভারেই ২২ রান তোলেন ইভান্স। বাংলাদেশের হয়ে তাসকিন ও মিরাজ ২টি করে উইকেট নেন। মুস্তাফিজুর রহমানের জায়গায় একাদশে ফেরা শরিফুল ইসলাম ৫০ রান দিয়ে উইকেটশূন্য থাকেন।
লক্ষ্য তাড়ায় শুরুটা ভালো হয়নি বাংলাদেশ দলেরও। ইনিংসের চতুর্থ ওভারে ব্যক্তিগত ৫ রান করে আউট হন ওপেনার সৌম্য সরকার। তিনে নামা নাজমুল হোসেন শান্তও দায়িত্ব নিতে পারেননি। ৯ রানে থামেন তিনি। এরপর দলকে টেনে তোলেন তামিম ও হৃদয়। তৃতীয় উইকেট জুটিতে ৮৪ রান যোগ করেন দুজন। ৫৭ রান করে জিম্বাবুয়ের অনিয়মিত স্পিনার বেনেটের বলে বোল্ড হন তামিম। হৃদয়ও ফিফটি পূর্ণ করে ৬০ রানে থামেন। তার আউটে কিছুটা চাপে পড়ে দল। মোসাদ্দেক হোসেনও দ্রুত ফিরে গেলে সে চাপ আরও বেড়ে যায়।
দলের প্রয়োজনে নুরুল হাসান সোহানও নিজের ইনিংসটাকে বেশিদূর টানতে পারেননি। ৩৮ রান করে আউট হন এই উইকেটরক্ষক-ব্যাটার। ২০৭ রানে ৬ উইকেট হারানোর পর বোলারদের নিয়ে লড়াই করেন অধিনায়ক মিরাজ। তবে কাজে আসেনি তার ২৭ রানের ইনিংসটি।