মেসিকে জেতানোর অভিযোগ নাকচ ফিফার

আপডেট : ১০ জুলাই ২০২৬, ০৮:০৪ এএম

আর্জেন্টিনার কাছে ৩-২ ব্যবধানে হেরে বিদায় নেওয়ার পর মাঠের রেফারিদের বিরুদ্ধে ‘গুরুতর’ পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তোলে মিসর ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন। ফরাসি রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়ে ও তার পুরো টিমকে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় করে দেওয়ার জন্য ফিফার কাছে আনুষ্ঠানিক দাবিও জানায় তারা। তবে মিসরের এই তীব্র ক্ষোভ ও অভিযোগের জবাবে রেফারিদের পাশে দাঁড়িয়ে কড়া বার্তা দিয়েছেন ফিফার রেফারি প্রধান পিয়েরলুইজি কলিনা। বুধবার ফিফার ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে কলিনা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, মাঠের কর্মকর্তাদের সততা নিয়ে প্রশ্ন তোলার কোনো সুযোগ নেই এবং ফিফার রেফারিদের ওপর কোনো প্রকার বাহ্যিক প্রভাব খাটানো অসম্ভব।

মঙ্গলবারের সেই নাটকীয় ম্যাচে এক পর্যায়ে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে গিয়েও শেষ মুহূর্তের ৩ গোল হজম করে ম্যাচ হারে মিসর। ম্যাচ শেষে তাদের কোচ হোসাম হাসান ক্ষোভ উগরে দিয়ে লড়াইটিকে অন্যায্য আখ্যা দেন। ফিফা আর্জেন্টিনাকে অনৈতিক সুবিধা দিচ্ছে এমন ইঙ্গিত করে তিনি বলেন যে, সম্ভবত তারা বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের টুর্নামেন্টে টিকিয়ে রাখতে চেয়েছিল এবং চেয়েছিল লিওনেল মেসি যেন আরও দীর্ঘ সময় এই প্রতিযোগিতায় থাকেন। তাদের এমন আপত্তির মূল জায়গা ছিল ম্যাচের শেষভাগের তিনটি ঘটনা, যার পরিপ্রেক্ষিতে কলিনা একে একে সবকটি ঘটনার রেফারিং সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা ব্যাখ্যা করেছেন।

প্রথমত, জিকো গোল করে ব্যবধান ২-০ করার আগেই বিল্ড-আপে মারোয়ান আতিয়া আর্জেন্টিনার লিসান্দ্রো মার্টিনেজের পা মাড়িয়ে দিয়েছিলেন এবং ভিএআর দেখে সেই গোল বাতিল করা পুরোপুরি সঠিক ছিল বলে জানান কলিনা। তিনি উল্লেখ করেন, ভিডিওতে পরিষ্কার দেখা গেছে আতিয়া প্রতিপক্ষের পায়ে আঘাত করেছেন এবং ফাউল এড়িয়ে গেলেও ভিএআর-এর এখানে হস্তক্ষেপ করার পূর্ণ অধিকার রয়েছে।

দ্বিতীয়ত, ম্যাচের শেষ মুহূর্তে আর্জেন্টিনার ডি-বক্সে হুলিয়ান আলভারেজের চ্যালেঞ্জে মোহামেদ সালাহ পড়ে গেলেও রেফারি পেনাল্টি না দেওয়ার সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেন কলিনা। তিনি জানান, ডিফেন্ডার যদি প্রথমে বল স্পর্শ করেন এবং তারপর সাধারণ ফুটবলীয় সংঘর্ষ হয়, তবে তা ফাউল নয় এবং রেফারি ও ভিএআর প্যানেল একে সাধারণ ফুটবলীয় কন্টাক্ট হিসেবেই সঠিক বিবেচনা করেছেন।

তৃতীয়ত, অতিরিক্ত সময়ে এনজোর করা জয়সূচক গোলের ঠিক আগের মুহূর্তে মিসরের হামদি ফাথিকে আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার টেনে ধরেছিলেন বলে দাবি করা হলেও রেফারি খেলা চালিয়ে যান এবং কলিনা এই সিদ্ধান্তের পক্ষেও রেফারির অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। এই ঘটনার তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে কলিনা বলেন, ‘ফুটবলে সিদ্ধান্ত নিয়ে যৌক্তিক আলোচনা চলতেই পারে, কিন্তু ভিত্তিহীন অপবাদের কোনো স্থান নেই এবং এই ধরনের অভিযোগ মাঠের কর্মকর্তাদের ও তাদের পরিবারকে ঝুঁকির মুখে ফেলে দেয়।’

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগুনের লাল কার্ডের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া নিয়ে ট্রাম্প ও ফিফা প্রেসিডেন্ট ইনফান্তিনোর মধ্যকার আলোচনাকে কেন্দ্র করে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, তার পরিপ্রেক্ষিতেও কলিনা সাফ জানিয়ে দেন যে, কেউ দাবি করতে পারে না ফিফার রেফারিরা কারও দ্বারা প্রভাবিত হতে পারেন, এমনকি ফিফা প্রেসিডেন্ট রেফারিদের ওপর কোনো প্রভাব খাটাতে পারেন না।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত