৩৯ বছরেও কীভাবে গতিমান মেসি

লিওনেল মেসির জন্য অসম্ভবকে সম্ভব করা যেন ডালভাত। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে ৭ গোল করার পর অনেকেই ভেবেছিলেন এটাই হয়তো তার ক্যারিয়ারসেরা বিশ্বকাপ। কিন্তু ২০২৬ বিশ্বকাপে ৩৯ বছর বয়সে এসে নিজের সেই রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে গেছেন তিনি। ৫ ম্যাচে ৮ গোল করে এ মুহূর্তে টুর্নামেন্টের শীর্ষ গোলদাতা ফুটবল ইতিহাসের সেরা খেলোয়াড়।

তার এই অবিশ্বাস্য ফর্মের পেছনে কাজ করছে এক জাদুকরী ফিটনেস ফর্মুলা। মেসির এই অভাবনীয় শারীরিক পরিবর্তন ও উন্নতির নেপথ্য কাহিনি এবার সামাজিক মাধ্যমে বিস্তারিত তুলে ধরেছেন বিখ্যাত স্প্যানিশ পুষ্টিবিদ এবং ট্রেইনার ইসমায়েল গালানচো, যিনি মেসি পরিবারের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত।

ইসমায়েল গালানচো তার অফিশিয়াল ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে বৈজ্ঞানিক তথ্য ও পরিসংখ্যানের সাহায্যে দেখিয়েছেন যে, বয়স বাড়লেও কাতারের চেয়ে এই বিশ্বকাপে মেসির গতি কীভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

ফুটবলারদের বয়স ৩০ পার হওয়ার পর সাধারণত গতি কমতে শুরু করে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ৩০ থেকে ৩৫ বছর বয়সের মধ্যে খেলোয়াড়রা প্রতি বছর ১% থেকে ২% গতি হারান। আর ৩৫ বছর পার হওয়ার পর প্রতি বছর গতি কমে প্রায় ১.৫% থেকে ৩% পর্যন্ত। ২০০৯ থেকে ২০১৫ সালের দিকে মেসির সর্বোচ্চ গতি ছিল ঘণ্টায় প্রায় ৩২.৫ থেকে ৩৩.৫ কিলোমিটার।

ক্রীড়া প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ‘ট্র্যাকাব’-এর তথ্য অনুযায়ী, কাতার বিশ্বকাপে মেসির সর্বোচ্চ গতি রেকর্ড করা হয়েছিল ২৯.৩৮ কিমি/ঘণ্টা। স্বাভাবিক নিয়মে ৩৯ বছর বয়সে এই বিশ্বকাপে তার গতি কমে ২৮.৩ থেকে ২৯.০৯ কিমি/ঘণ্টার মধ্যে থাকার কথা ছিল। কিন্তু সোফাস্কোরের তথ্য-উপাত্ত সবাইকে চমকে দিয়েছে

‘এই বিশ্বকাপে লিওনেল মেসির সর্বোচ্চ গতি রেকর্ড করা হয়েছে ৩০.৯ কিমি/ঘণ্টা! অর্থাৎ চার বছর আগের কাতার বিশ্বকাপের তুলনায় তার গতি কমে তো যাই-নি, উল্টো ৫%-এরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।’

পুষ্টিবিদ গালানচো সংক্ষেপে এর রহস্য উন্মোচন করে লিখেছেন  ‘আপনি যখন নিজের শারীরিক কন্ডিশনিং, পুষ্টি, রিকভারি, হাইড্রেশন এবং ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্ট নিয়ে নিখুঁতভাবে কাজ করবেন, তখনই এমনটা সম্ভব। মেসির অবিশ্বাস্য সহজাত প্রতিভা তো আছেই, তবে তার এই পর্যায়ে থাকার মূল কারণ তার কঠোর পরিশ্রম, ধারাবাহিকতা ও শৃঙ্খলা। চার বছর সময় পার হয়ে গেলেও, তিনি আক্ষরিক অর্থেই গত বিশ্বকাপের চেয়ে এই বিশ্বকাপে শারীরিকভাবে আরও ভালো অবস্থায় আছেন।’

বিশ্বকাপের ঠিক আগে ইন্টার মায়ামির হয়ে পাওয়া চোট পুরোপুরি কাটিয়ে উঠে মেসি এখন অতিমানবীয় ফর্মে আছেন। আর্জেন্টিনার খেলা ৫টি ম্যাচের মধ্যে ৪টিতেই নির্বাচিত হয়েছেন ম্যাচসেরা।