পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা, দ্রুত বিচার ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

বরিশালের আগৈলঝাড়া থানায় গুজবকে কেন্দ্র করে সংঘটিত হামলা, ভাঙচুর এবং দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন। একই সঙ্গে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, গুজবের উৎস শনাক্ত এবং হামলায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। 

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের এক বিবৃতিতে এ দাবি জানানো হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, গত ৮ জুলাই নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার বাকাল ইউনিয়নের ফুল্লশ্রী গ্রামের বাসিন্দা ও একটি চুরি মামলার আসামি রিয়াজ ফকিরকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে একটি মাদক মামলাও রয়েছে এবং তিনি মাদকাসক্ত ছিলেন বলে উল্লেখ করা হয়।

বিবৃতিতে দাবি করা হয়, থানার হাজতে থাকা অবস্থায় মাদকের প্রভাবে রিয়াজ নিজেই নিজের মাথায় আঘাত করে আহত হন। পরে রাত ১১টার দিকে তাকে আগৈলঝাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে গভীর রাতে তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

এরই মধ্যে ৯ জুলাই দুপুরে এলাকায় রিয়াজ ফকিরের মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়ে। ওই গুজবের জেরে একদল উত্তেজিত ব্যক্তি প্রকৃত তথ্য যাচাই না করেই আগৈলঝাড়া থানায় হামলা চালায়। হামলার সময় থানায় ভাঙচুরের পাশাপাশি দায়িত্ব পালনরত পুলিশ সদস্যদের ওপরও হামলা করা হয় বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

সংগঠনটি বলেছে, গুজবনির্ভর এ ধরনের সহিংসতা শুধু আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য হুমকি নয়, বরং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান, বিচারব্যবস্থা এবং জননিরাপত্তার ওপরও সরাসরি আঘাত। কোনো ঘটনার প্রকৃত তথ্য উদ্ঘাটনের আগেই গুজব ছড়িয়ে জনতাকে উসকে দেওয়া এবং সরকারি স্থাপনায় হামলা চালানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন আরও জানায়, পুলিশের হেফাজতে কোনো ব্যক্তি অসুস্থ, আহত বা তার বিষয়ে অভিযোগ উঠলে তা তদন্তের জন্য দেশের প্রচলিত আইনে যথাযথ ব্যবস্থা রয়েছে। তাই আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া কিংবা গুজবের ভিত্তিতে সহিংসতা সৃষ্টি করা বিচারপ্রক্রিয়া ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতি জনআস্থা ক্ষুণ্ন করে।

বিবৃতিতে আশঙ্কা প্রকাশ করে বলা হয়, গুজব ছড়িয়ে সংঘবদ্ধ হামলা চালানো এবং পুলিশের মনোবল দুর্বল করার অপচেষ্টার পেছনে কোনো স্বার্থান্বেষী মহলের পরিকল্পিত ভূমিকা থাকতে পারে। তাই হামলার নেপথ্যে কোনো সংগঠিত উসকানি ছিল কি না, সেটিও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও উসকানিমূলক প্রচারণার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন দেশের নাগরিকদের প্রতি যাচাইবিহীন তথ্য বিশ্বাস না করার আহ্বান জানিয়েছে।

পাশাপাশি যেকোনো অভিযোগ বা অসন্তোষের ক্ষেত্রে আইনসম্মত ও শান্তিপূর্ণ উপায়ে সমাধানের পথ অনুসরণের ওপর গুরুত্ব আরোপ করে সংগঠনটি জানায়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ পুলিশ ভবিষ্যতেও পেশাদারিত্ব, সংযম ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবে।