কোয়ানসা-বালোগুন ইস্যুতে ফিফার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন

বিশ্বকাপে একই ধরনের অপরাধের জন্য ইংল্যান্ডের জ্যারেল কোয়ানসার ও যুক্তরাষ্ট্রের ফোলারিন বালোগুনের ভিন্ন ভিন্ন সাজা নিয়ে ফুটবলের অভিজ্ঞ সাবেক রেফারিদের মধ্যে দেখা দিয়েছে তীব্র অসন্তোষের। মাঠে খেলোয়াড়দের অপরাধের ধরন প্রায় সমান হওয়া সত্ত্বেও ফিফার দেওয়া বিপরীতমুখী শাস্তির বিধানকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে মনে করছেন তারা।

বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে কোয়ানসার ও বালোগুন উভয়ই স্টাডস-আপ চ্যালেঞ্জের কারণে রেফারি কর্তৃক সরাসরি লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন। মেক্সিকোর বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচে কোয়ানসার এই লাল কার্ড দেখার পর দুই ম্যাচের নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়েন। অন্যদিকে, শেষ বত্রিশের ম্যাচে বসনিয়ার বিপক্ষে বালোগুনও একই অপরাধে লাল কার্ড দেখেছিলেন, কিন্তু ফিফা তাদের শৃঙ্খলাবিধির বিতর্কিত ২৭ নম্বর অনুচ্ছেদ ব্যবহার করে তার এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা পরবর্তীতে স্থগিত করে দেয়। একই ধরনের অপরাধের জন্য এই বৈষম্যমূলক শাস্তির বিষয়টিই তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। 

সাবেক ফিফা রেফারি কিথ হ্যাকেট সরাসরি ফিফার ওপর দায় চাপিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি লিখেছেন, ‘ফিফা তাদের পেশাদারিত্ব বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়েছে। বালোগুনের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের সুযোগ করে দিয়ে তারা গেমটির মর্যাদাকে ক্ষুণ্ণ করেছে। উভয় খেলোয়াড়ই গুরুতর ফাউলের অপরাধ করেছিল, তবে শাস্তির বিচারে ফিফা সম্পূর্ণ ব্যর্থ।’

অন্যদিকে, দীর্ঘ ১৬ বছর ফিফার রেফারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করা জোনাস এরিকসন ফুটবলের আইন প্রয়োগের ধারাবাহিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তার ভাষায়, ‘ফুটবল অনুরাগীরা রেফারিদের কাছ থেকে নির্ভুল সিদ্ধান্তই আশা করে, কিন্তু তার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো ধারাবাহিকতা। একজন খেলোয়াড় যে শাস্তি পাবে, অন্যজনকে একই অপরাধে ভিন্ন শাস্তি দেওয়া মানে নিয়মকে উপহাস করা।’

এছাড়া এরিকসনের মতে, ফিফা কেন ব্যালোগানের সাজা স্থগিতের ক্ষেত্রে শৃঙ্খলাবিধির বিতর্কিত ২৭ নম্বর অনুচ্ছেদ ব্যবহার করেছে, তার কোনো স্বচ্ছ ব্যাখ্যা না থাকায় ফুটবলের নীতিনির্ধারকদের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা আজ বড় ধরনের সংকটের মুখে।