টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের প্রভাবে কক্সবাজারে বন্যা পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি। বৃষ্টির তীব্রতা কিছুটা কমে পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকলেও জেলার অন্তত ৪০টি ইউনিয়নের দুই শতাধিক গ্রাম এখনো পানিতে ডুবে রয়েছে। এতে প্রায় ছয় লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
শুক্রবারও (১০ জুলাই) জেলার প্রধান দুই নদী বাঁকখালী ও মাতামুহুরীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। নদীর পানি উচ্চ অবস্থানে থাকায় নতুন করে প্লাবিত হওয়ার শঙ্কাও পুরোপুরি কাটেনি।
জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, টানা বৃষ্টি, বন্যা ও পাহাড়ধসের ঘটনায় গত চার দিনে জেলায় অন্তত ২২ জনের মৃত্যু হয়েছে। অধিকাংশ উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন সড়কে যোগাযোগ ব্যাহত হয়েছে। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি নৌপথেও চলাচল বন্ধ রয়েছে।
পরিস্থিতির আরও অবনতি এড়াতে জেলা প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে। পাহাড়ের পাদদেশ, ঢালু এলাকা এবং বন্যাকবলিত নিচু স্থানে বসবাসকারী মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়ার কার্যক্রম চলছে।
জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের তথ্য অনুযায়ী, কক্সবাজার সদর, চকরিয়া, পেকুয়া, উখিয়া, টেকনাফ, রামু, মহেশখালী, কুতুবদিয়া, ঈদগাঁওসহ মাতামুহুরী নদীসংলগ্ন বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। বহু বসতবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও গ্রামীণ সড়ক প্লাবিত হওয়ায় স্বাভাবিক জনজীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে রয়েছে চকরিয়া ও পেকুয়া উপজেলা। বিশেষ করে রাজাখালী, মগনামা, উজানটিয়া ইউনিয়ন এবং চকরিয়া পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা তীব্র আকার ধারণ করেছে। স্থানীয়দের দাবি, কয়েকটি মাছের ঘেরে পানি আটকে থাকায় পানি দ্রুত নামতে পারছে না। ফলে অনেক এলাকায় মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।
পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রফিকুল ইসলাম বলেন, অতিরিক্ত বৃষ্টিতে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় উপজেলা প্রশাসন সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান জানান, সম্ভাব্য যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলার ৬৪৮টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। উদ্ধার, ত্রাণ বিতরণ এবং জরুরি সহায়তা কার্যক্রম সমন্বয়ের জন্য জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সার্বক্ষণিক একটি কন্ট্রোল রুম চালু রয়েছে।
তিনি আরও জানান, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য পর্যাপ্ত শুকনো খাবার মজুত রয়েছে। অতিরিক্ত শুকনো খাবারের চাহিদাও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য প্রয়োজনীয় ঢেউটিন প্রস্তুত রাখা হয়েছে। আবহাওয়া স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সবাইকে সতর্ক থাকার এবং সরকারি নির্দেশনা অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
অন্যদিকে, সাগর উত্তাল থাকায় টানা অষ্টম দিনের মতো টেকনাফ-সেন্টমার্টিন, কক্সবাজার-মহেশখালী এবং পেকুয়া-কুতুবদিয়া নৌপথে সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে দ্বীপাঞ্চলের হাজারো বাসিন্দা যাতায়াত ও নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজে ভোগান্তির মুখে পড়েছেন।