ভারী বর্ষণ, জোয়ারের পানি আর বৈরী আবহাওয়ায় ভোলার দ্বীপ উপজেলা মনপুরা এখন কার্যত অবরুদ্ধ। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পানিবন্দি হয়ে পড়েছে প্রায় ২০ হাজার মানুষ। অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ। স্বাভাবিক জীবনযাপন বন্ধ হওয়ায় খাদ্যসংকটে পড়েছে নিম্ন আয়ের অসংখ্য পরিবার। এদিকে সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর এবং নদীবন্দরে ১ নম্বর সতর্কসংকেত বহাল থাকায় বন্ধ রয়েছে নৌযান চলাচল। ফলে জেলা সদরসহ দেশের অন্যান্য এলাকার সঙ্গে মনপুরার যোগাযোগও কার্যত বিচ্ছিন্ন।
জানা গেছে, হাজিরহাট ইউনিয়নের ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ড, মনপুরা ইউনিয়নের ২ ও ৫ নম্বর ওয়ার্ড, উত্তর ও দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা এবং চরকলাতলী ইউনিয়নের বিভিন্ন চরাঞ্চল পানিতে তলিয়ে গেছে।
কোথাও কোথাও দুই থেকে তিন ফুট পর্যন্ত পানি জমে রয়েছে। দাসেরহাট, চরযতিন, সোনারচর, চরজ্ঞান, মাস্টারহাট, খারির খাল, রহমানপুর, কাউয়ারটেক, আন্দিরপাড়, কাজীরচর ও ঢালচর এলাকায় দুর্ভোগ সবচেয়ে বেশি।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, জলাবদ্ধতার পাশাপাশি বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকায় মোবাইল ফোন চার্জ দেওয়া, বিশুদ্ধ পানি সংগ্রহ, শিশুদের খাবার সংরক্ষণ এবং রাতের নিরাপত্তা নিয়েও ভোগান্তি বেড়েছে। অনেক নলকূপের আশপাশ ডুবে যাওয়ায় বিশুদ্ধ পানিরও সংকট দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন, এতে করে ডায়রিয়া, জ¦র ও চর্মরোগসহ পানিবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়বে।
স্থানীয়দের অভিযোগ বিভিন্ন খাল দখল, অপরিকল্পিত বেড়িবাঁধ নির্মাণ এবং কয়েকটি সøুইসগেট অকার্যকর থাকায় বৃষ্টির পানি দ্রুত নামতে পারছে না। তারা দ্রুত খাল পুনঃখনন, সøুইসগেট সংস্কার এবং স্থায়ী পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার দাবি জানান।
এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ডিভিশন-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আসফাউদ্দৌলা বলেন, টানা বর্ষণ ও জোয়ারের প্রভাবে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। পানি নিষ্কাশনের কাজ চলমান রয়েছে। দীর্ঘমেয়াদে খাল খননসহ স্থায়ী সমাধানের পরিকল্পনা রয়েছে।
এদিকে বৈরী আবহাওয়ার কারণে গত বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে মনপুরাগামী সব যাত্রীবাহী নৌযান চলাচল বন্ধ রয়েছে। ভোলা জেলা বিআইডব্লিউটিএর সহকারী পরিচালক নির্মল কুমার রায় জানান, যাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থে নৌযান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।