প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথে বার্নহাম

যুক্তরাজ্যের লেবার পার্টির সিংহভাগ আইনপ্রণেতার (এমপি) সমর্থন পেয়েছেন অ্যান্ডি বার্নহাম। এর মাধ্যমে দলটির পরবর্তী প্রধান ও দেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথে আরও একধাপ এগিয়ে গেলেন তিনি। বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের স্থলাভিষিক্ত হতে চলা বার্নহামকে দলটির ৪০২ এমপির মধ্যে ৩২২ জনই ইতিমধ্যে সমর্থন দিয়েছেন। বর্তমানে তিনি এই পদের একমাত্র ঘোষিত প্রার্থী। প্রতিদ্বন্দ্বী কোনো প্রার্থী যাতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে না পারেন, সে জন্য গাণিতিকভাবে ৩২৩ এমপির সমর্থন প্রয়োজন। বার্নহাম সেই জাদুসংখ্যা থেকে মাত্র এক ভোট থেকে দূরে আছেন।

বেশ কয়েকজন এমপি জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার তারা সংসদে উপস্থিত থাকতে না পারায় ভোট দিতে পারেননি, তবে ফিরে এসেই তারা বার্নহামকে সমর্থন জানাবেন। 

ফলে প্রত্যাশানুযায়ী আর কেউ যদি এই লড়াইয়ে অংশ না নেন, তবে আগামী সপ্তাহেই বার্নহামকে লেবার পার্টির নেতা ঘোষণা করা হবে এবং আগামী ২০ জুলাই তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।

গ্রেটার ম্যানচেস্টারের সাবেক এই মেয়রের জন্য এটি এক অসাধারণ ক্ষমতার উত্থান। মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগেই তিনি মেকারফিল্ড আসনের উপনির্বাচনে জয়ী হয়ে পার্লামেন্টে ফিরেছেন। এক বিবৃতিতে বার্নহাম জানান, লেবার এমপিদের এই সমর্থনে তিনি গভীরভাবে কৃতজ্ঞ। এই সমর্থন পুরো দল থেকে এসেছে এবং এটি যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে একটি নতুন পদ্ধতির প্রয়োজনীয়তার যৌথ বিশ্বাসের প্রতিফলন।

বার্নহাম বলেন, ‘আমি ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ, সাধারণ মানুষের জন্য অর্থনীতি পুনর্গঠন এবং প্রতিটি অঞ্চলে সুষম উন্নয়নের বার্তা দিচ্ছি।’

উল্লেখ্য, গত মে মাসের স্থানীয় নির্বাচনে লেবার পার্টির বড় ধরনের বিপর্যয় এবং উপ-নির্বাচনে বার্নহামের বিজয়ের পর প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারকে পদ ছেড়ে দেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছিলেন দলটির এমপিরা।

বার্নহাম এমপি হিসেবে শপথ নেওয়ার দিনই স্টারমার পদত্যাগের ঘোষণা দেন। বার্নহামের ক্ষেত্রে প্রতিদ্বন্দ্বিতার পথ গত বুধবার সন্ধ্যায়ই পরিষ্কার হয়ে যায়, যখন সাবেক প্রতিরক্ষা মন্ত্রী আল কার্নস এই লড়াই থেকে নিজেকে সরিয়ে নেন।

এর আগে ২০১০ এবং ২০১৫ সালে লেবার পার্টির নেতৃত্বের লড়াইয়ে নেমে ব্যর্থ হয়েছিলেন বার্নহাম। যার ফলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এবার নিজের প্রার্থিতা নিশ্চিত করে তিনি রসিকতা করে লেখেন, ‘আশা করি এবার তৃতীয়বারে ভাগ্য সহায় হবে।’

গাজা যুদ্ধে লেবার পার্টির ভূমিকায় ক্ষমা চাইলেন বার্নহাম : ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলের ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের প্রতি লেবার পার্টির প্রতিক্রিয়া ও ভূমিকার জন্য ক্ষমা চেয়েছেন অ্যান্ডি বার্নহাম। ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বার্নহাম বলেছেন, অনেকেই মনে করেন গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরুর দিকে লেবার পার্টি সঠিক ভূমিকা নিতে পারেনি। এর জন্য তিনি দুঃখিত। লেবারের প্রতিক্রিয়া অনেক ক্ষেত্রে যথেষ্ট ভালো ছিল না। রক্তক্ষয়ী হামলার শুরুর দিকে লেবার পার্টির নেতা কিয়ার স্টারমার একটি রেডিও সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, গাজার ফিলিস্তিনিদের পানি, খাবার ও বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করার অধিকার ইসরায়েলের আছে।