যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীন ফেডারেল সংস্থা ইলেকশন অ্যাসিস্ট্যান্স কমিশনের (ইএসি) বাকি তিন সদস্যকেও পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হোয়াইট হাউস এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের মাত্র কয়েক মাস আগে তিনি এ নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিলেন।
এই স্বাধীন কমিশনটি মূলত দেশজুড়ে নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের প্রশাসনিক সহায়তা দিয়ে থাকে। চার সদস্যের এই দ্বিদলীয় (বাইপার্টিজান) কমিশনের একজন সদস্য গত এপ্রিলে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নেন। বাকি থাকা তিন কমিশনারকে বৃহস্পতিবার ভিন্ন ভিন্ন উপায়ে সরিয়ে দেওয়া হয়। এদের মধ্যে রিপাবলিকান পার্টির মনোনীত সদস্য পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। ডেমোক্রেটিক পার্টির মনোনীত বাকি দুই সদস্যকে হোয়াইট হাউজের পার্সোনেল অফিস থেকে ইমেইল পাঠিয়ে বরখাস্ত করা হয়। সেই ইমেইলে লেখা ছিল ‘প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড জে ট্রাম্পের পক্ষ থেকে জানানো যাচ্ছে যে, নির্বাচন সহায়তা কমিশনের কমিশনার পদ থেকে আপনাকে অবিলম্বে বরখাস্ত করা হলো। আপনার সেবার জন্য ধন্যবাদ।’
সম্প্রতি মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের একটি রায়ে স্বাধীন সংস্থাগুলোর কর্মকর্তাদের বরখাস্ত করার ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্টকে বাড়তি ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। আর ওই রায়ের পরই ট্রাম্প প্রশাসন এমন পদক্ষেপ নিল।
আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় কংগ্রেসের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে ভোটের প্রক্রিয়ায় ফেডারেল সরকারের ভূমিকা বাড়ানোর চেষ্টা করছেন ট্রাম্প। তবে যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব সাধারণত অঙ্গরাজ্যগুলোর ওপরই থাকে।
হোয়াইট হাউজের একজন কর্মকর্তা এক বিবৃতিতে বলেন, ‘যারা যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন নিরাপদ রাখা এবং প্রতিটি বৈধ ভোট গণনা নিশ্চিত করার গুরুত্বপূর্ণ কাজে পুরোপুরি একমত নন বলে মনে হবে, তাদের অপসারণের অধিকার প্রেসিডেন্ট এবং নির্বাহী বিভাগের প্রধানের আছে।’
ওই কর্মকর্তা সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক রায়ের কথাও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন নির্বাচনকে জালিয়াতি ও অনিয়ম থেকে সুরক্ষিত রাখতে বিভিন্ন সরকারি সংস্থা এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কাজ করছে। পাশাপাশি বিশেষ করে মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে এ কাজে শক্তিশালী অবকাঠামো গড়ে তুলতে বিনিয়োগ করা হচ্ছে। ২০০২ সালে কংগ্রেসের ‘হেল্প আমেরিকা ভোট অ্যাক্ট’-এর মাধ্যমে এ নির্বাচন কমিশন গঠিত হয়েছিল।
এর চারজন কমিশনারকে প্রেসিডেন্ট নিয়োগ দেন এবং নিয়মানুযায়ী এখানে সমানসংখ্যক (দুজন ডেমোক্র্যাট ও দুজন রিপাবলিকান) সদস্য থাকতে হয়, যাদের চূড়ান্ত অনুমোদন দেয় সিনেট।
বরখাস্ত হওয়া তিন কমিশনার টমাস হিকস, বেনিয়ামিন হভল্যান্ড ও ক্রিস্টি ম্যাককরমিক সিনেটের সর্বসম্মত অনুমোদনে নিয়োগ পেয়েছিলেন।
কমিশনের ওয়েবসাইট অনুযায়ী, সংস্থাটি নির্বাচন পরিচালনাসংক্রান্ত তথ্যের জাতীয় কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে। এর লক্ষ্য, ভালোভাবে নির্বাচন পরিচালনা করতে নির্বাচন কর্মকর্তাদের সহযোগিতা করা এবং মার্কিন নাগরিকদের ভোট দেওয়ার প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে সাহায্য করা। ১৯৯৩ সালের ন্যাশনাল ভোটার রেজিস্ট্রেশন আইনের অধীনে চালু করা ‘জাতীয় ডাকযোগে ভোটার নিবন্ধন ফরম’-এর তত্ত্বাবধানও করে সংস্থাটি।
মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে ডাকযোগে ভোট দেওয়ার নিয়মে পরিবর্তন আনার জন্য ট্রাম্প ও তার প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের প্রচারের পরই এ বরখাস্তের ঘটনা ঘটল। একই সঙ্গে ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফল নিয়েও তদন্ত চলছে। ওই নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেনের কাছে হেরে গিয়েছিলেন ট্রাম্প।
দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পরও ট্রাম্প বারবার কোনো প্রমাণ ছাড়াই দাবি করে আসছেন ২০২০ সালের নির্বাচনে কারচুপির মাধ্যমে তার কাছ থেকে জয় ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে।
কমিশনের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা : কমিশনের ২০০২ সালের আইন অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট নতুন সদস্য নিয়োগ দিতে পারলেও ট্রাম্প এই কমিশনকে কীভাবে এগিয়ে নেবেন তা এখনো স্পষ্ট নয়। হঠাৎ করে সব সদস্যকে সরিয়ে দেওয়ায় কমিশনের ভবিষ্যৎ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছেন ভার্জিনিয়ার ডেমোক্র্যাট সিনেটর মার্ক ওয়ার্নার। এক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে তিনি লিখেছেন ‘২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনের মাত্র কয়েক মাস আগে সব কমিশনারকে সরিয়ে দেওয়া একটি নজিরবিহীন পদক্ষেপ।’