প্রিয় দলের পরাজয়জনিত মানসিক চাপ বা ‘স্পোর্টস ফ্যান ব্লুজ’ সামলাতে খেলাটিকে ব্যক্তিগত জীবনের অংশ না বানিয়ে কেবলই বিনোদন হিসেবে গ্রহণ করা সবচেয়ে জরুরি। বছরের পর বছর ধরে দলের প্রতি গভীর আবেগ তৈরি হওয়ায় ম্যাচ হারলে মনে তীব্র ক্ষোভ, হতাশা কিংবা ট্রলের ভয় কাজ করাটা অস্বাভাবিক নয়। তবে কিছু কার্যকর কৌশল অনুসরণ করে এই মানসিক অস্বস্তি খুব সহজেই কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।
বিশ্বকাপে প্রিয় দলের বিদায়ের পর অনেক সমর্থকই ভেঙে পড়েন। কারও মন খারাপ থাকে দিনের পর দিন, কেউ আবার ম্যাচের হতাশা কাটিয়ে উঠতে পারেন না। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, কয়েকটি সহজ অভ্যাস এই হতাশা কাটিয়ে স্বাভাবিক হতে সাহায্য করতে পারে।
ম্যাচ শেষ হওয়ার পর ফেসবুক, এক্স (টুইটার) বা অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাপ চালানো বন্ধ রাখুন। পরাজয়ের পর অনলাইনে শুরু হওয়া ট্রল বা বিদ্রূপাত্মক পোস্ট আপনার হতাশা ও মানসিক চাপ বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে পারে। বন্ধুদের মেসেঞ্জার বা হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের নোটিফিকেশন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখুন যাতে অনাকাঙ্ক্ষিত বিতর্ক এড়ানো যায়।প্রতিপক্ষ সমর্থকদের উসকানিমূলক বা খোঁচামূলক মন্তব্যের উত্তর না দিয়ে সম্পূর্ণ নীরব থাকুন।
ম্যাচ শেষ হওয়ার সাথে সাথেই টেলিভিশন বা স্ট্রিমিং স্ক্রিন বন্ধ করে দিন। ১০ থেকে ৩০ মিনিট হাঁটাহাঁটি বা ফ্রি-হ্যান্ড ব্যায়াম করুন, যা শরীরে ডোপামিন হরমোন বাড়িয়ে মন ভালো করতে সাহায্য করে। পেট খালি থাকলে হতাশা বা খিটখিটে ভাব বেশি কাজ করে, তাই নিজের পছন্দের কোনো খাবার উপভোগ করুন। খেলাধুলার খবর বা ম্যাচ বিশ্লেষণ দেখা বাদ দিয়ে কোনো হাসির ভিডিও দেখুন, সিনেমা উপভোগ করুন কিংবা বই পড়ুন। মনকে শান্ত করতে পাজল বা ধাঁধা সমাধান করুন, ছবি আঁকুন অথবা কয়েকবার গভীর শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম করুন।
একজন প্রকৃত সমর্থক শুধু জয়ের সময় নয়, হারের সময়ও দলের পাশে থাকেন। সামনে নতুন ম্যাচ, নতুন টুর্নামেন্ট এবং ঘুরে দাঁড়ানোর নতুন সুযোগ আসবেই।
সবশেষে মনে রাখুন, ফুটবলের আনন্দ শুধু ট্রফি জেতায় নয়। বন্ধুদের সঙ্গে খেলা দেখা, উত্তেজনা ভাগাভাগি করা, জয় উদ্যাপন করা কিংবা পরাজয়ের পরও নিজের দলের পাশে থাকা এসবই একজন সত্যিকারের সমর্থকের পরিচয়। কারণ ফুটবল শেখায়, হার শেষ কথা নয়; প্রতিটি হারই নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর অনুপ্রেরণা।