মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে টানা এক সাপ্তহের ভারি বৃষ্টির কারণে পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের গ্রামীণ কাঁচা সড়ক চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। কাদা আর অসংখ্য ছোট-বড় গর্তের কারণে শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বিশেষ করে পায়রা ও লোহালিয়া নদীসংলগ্ন এলাকার সড়কগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখা গেছে, উপজেলার মুরাদিয়া, শ্রীরামপুর, লেবুখালী, পাঙ্গাশিয়া ও আঙ্গারিয়া ইউনিয়নের অধিকাংশ কাঁচা সড়ক বর্তমানে কাদায় একাকার। শুকনো মৌসুমে সংস্কার করা অনেক সড়কই টানা বৃষ্টিতে ভেঙে গেছে। কোথাও কোথাও সড়ক জোয়ারের পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় যানবাহন চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে পড়েছে।
সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির চিত্র দেখা গেছে শ্রীরামপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের লেবুখালী-চরগরবদী সড়কের জনপদ মহাসড়ক থেকে জানের খালের পূর্বপাড় পর্যন্ত অংশে। সড়কজুড়ে কাদা ও পানি জমে থাকায় পথচারীদের হেঁটে চলাচল করতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন রাজাখালী, দক্ষিণ রাজাখালী, চরবয়েড়া ও মুরাদিয়া ইউনিয়নের একাংশের শত শত মানুষ উপজেলা সদরে যাতায়াত করেন। কিন্তু বর্তমানে কাদার কারণে শিক্ষার্থী, রোগী ও কর্মজীবী মানুষের দুর্ভোগ কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। অনেকেই বিকল্প পথ ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছেন।
শ্রীরামপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য মোল্লা আবুল কালাম আজাদ বলেন, টানা বৃষ্টিতে সড়কগুলো সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। দ্রুত সংস্কার না করলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে।
মুরাদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান বলেন, বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে নদী তীরবর্তী কাঁচা সড়কগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মানুষের চলাচল স্বাভাবিক রাখতে জরুরি ভিত্তিতে সংস্কার প্রয়োজন।
পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট গাজী নজরুল ইসলাম বলেন, শুকনো মৌসুমে সংস্কার করা সড়কগুলোও ভারি বৃষ্টিতে আবার ভেঙে গেছে। বৃষ্টি কমলেই ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হবে।