ক্ষতি যা হওয়ার, আগেই হয়ে গেছে। একমাত্র টেস্টের পর প্রথম দুই ম্যাচ হেরে ওয়ানডে সিরিজও হাতছাড়া করে বাংলাদেশ দল। আজ হারারেতে হোয়াইটওয়াশ এড়াতে নেমে ৭ উইকেটের সান্ত্বনার জয় পেয়েছেন সফরকারীরা। এই সিরিজের শেষ ম্যাচ জেতায় বেশ কিছু রেটিং পয়েন্ট বাঁচাতে পারলেন মেহেদী হাসান মিরাজরা।
আগের দুই ম্যাচ জিতে সিরিজ জয়ের পাশাপাশি র্যাংকিংয়েও এক ধাপ এগিয়ে ১২ থেকে ১১ নম্বরে উঠে এসেছে জিম্বাবুয়ে। ২০২৭ বিশ্বকাপে সরাসরি খেলতে হলে র্যাংকিংয়ে সেরা ৯ দলের মধ্যে থাকতে হবে বাংলাদেশকে। মিরাজরা অবশ্য এখনো এই অবস্থান ধরে রেখেছেন। তবে এই সিরিজে ৩ রেটিং পয়েন্ট হারিয়েছে সফরকারীরা। আরও ক্ষতি হতো, যদি আজ শেষ ম্যাচটিও হেরে যেত। জয়ের ছন্দটা বুনে দেন বোলাররা। শরিফুল ইসলাম সর্বাধিক ৪ উইকেট নেন। অনবদ্য বোলিংয়ে ১০ ওভারে ৪ মেডেনসহ ৩২ রান দিয়ে ২ উইকেট নেন তাসকিন আহমেদ। এতে ১৯৯ রানে অলআউট হয় স্বাগতিকরা। লক্ষ্য তাড়ায় দুই ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম ও সৌম্য সরকারের ফিফটিতে ৮৪ বল আগেই জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ।
অথচ আগের দুই ম্যাচে ব্যাটারদের ব্যর্থতার জন্য হারে সফরকারীরা। আজ আর ভুল করেননি তারা। দারুণ ব্যাটিংয়ে তামিম-সৌম্যর উদ্বোধনী জুটিতে ১৫১ রান তোলে বাংলাদেশ। সৌম্য ৬৯ রানে আউট হলে সেঞ্চুরির জন্য চেষ্টা করেন তামিম, তবে হয়নি। ৩ বার জীবন পেয়ে ৯৪ রানে থামেন তিনি। পরে তাওহীদ হৃদয় শূন্য রানে আউট হন। তবে তিনে নামা নাজমুল হোসেন ১৮ রানে অপরাজিত থাকেন। অবশ্য এই ম্যাচে স্বাগতিকদের নিয়মিত অধিনায়ক রিচার্ড এনগারভার সঙ্গে টি-টোয়েন্টি সিরিজের ভাবনায় বিশ্রামে ছিলেন তারকা পেসার ব্লেসিং মুজারাবানি ও নিউম্যান নিয়ামুরি।
এর আগে প্রথম দুই ওয়ানডের মতো আজও বল হাতে ভালো শুরু পায় বাংলাদেশ। দলীয় ১৭ রানে প্রথম আঘাত হানেন শরিফুল। আগের ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান বেন কারেনকে (২) ফেরান এই বাঁহাতি পেসার। পরের ওভারে আরেক ওপেনার ব্রায়ান বেনেটকে আউট করেন তাসকিন। ২ উইকেট হারিয়ে প্রথম পাওয়ার প্লের ১০ ওভারে মাত্র ২১ রান তোলে স্বাগতিকরা। একটু পর দ্বিতীয় শিকার ধরেন শরিফুল। ব্যক্তিগত ৫ রান করে আউট হন ক্রেইগ আরভিন।
এরপর হাল ধরেন ওয়েসলি মাধেভেরে। চতুর্থ উইকেটে ইনোসেন্ট কাইয়ার (২৫) সঙ্গে ৫১, পঞ্চম উইকেটে সিকান্দার রাজার (১১) সঙ্গে ২৯ ও সপ্তম উইকেটে ব্রাড ইভান্সের সঙ্গে ৪৩ রানের জুটি গড়েন তিনি। মাঝে ক্লাইভ মাডান্ডে ১ রান করে আউট হন। অর্ধশতক করা মাধেভেরে দেখেশুনে খেলে সেঞ্চুরির দিকে ছুটছিলেন, তবে দ্রুত রান তুলতে গিয়ে তানভীর ইসলামের স্পিনে ধরা পড়েন তিনি। এই মিডল অর্ডার ব্যাটার ৭৫ রানে আউট হলে দায়িত্ব নেন ইভান্স। শেষ দিকে তার ৫০১ রানের সৌজন্যে দুই শ ছুঁইছুঁই সংগ্রহ পায় জিম্বাবুয়ে। তবে শেষ পর্যন্ত যথেষ্ট হয়নি জিম্বাবুয়ের এই পুঁজি।