মানুষের গায়ের রঙ ভিন্ন কেন

মানুষের গায়ের রঙ এক নয়। কেউ খুব ফর্সা, কেউ শ্যামলা, আবার কেউ গাঢ় বর্ণের। এর প্রধান কারণ ত্বকে থাকা মেলানিন নামের প্রাকৃতিক রঞ্জক পদার্থ। ত্বকের মেলানোসাইট কোষ এই মেলানিন তৈরি করে। মেলানিন যত বেশি উৎপন্ন হয়, ত্বকের রঙ তত গাঢ় হয়; আর কম উৎপন্ন হলে ত্বক তুলনামূলক ফর্সা দেখায়।

গায়ের রঙ নির্ধারণে জিনগত বৈশিষ্ট্যের পাশাপাশি পরিবেশও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। হাজার হাজার বছর ধরে বিভিন্ন অঞ্চলের সূর্যালোকের তীব্রতার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে মানুষের ত্বকের রঙে পরিবর্তন এসেছে। বিষুবরেখার কাছাকাছি অঞ্চলে অতিবেগুনি (টঠ) রশ্মির মাত্রা বেশি হওয়ায় সেখানে বসবাসকারী মানুষের শরীরে বেশি মেলানিন তৈরি হয়, যা ত্বককে সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে সুরক্ষা দেয়। অন্যদিকে অপেক্ষাকৃত কম সূর্যালোকযুক্ত অঞ্চলে বসবাসকারী মানুষের ত্বক হালকা রঙের হওয়ায় শরীর সহজে ভিটামিন ডি তৈরি করতে পারে।

বিজ্ঞানীরা আরও জানিয়েছেন, গঈ১জ, ঝখঈ২৪অ৫, ঝখঈ৪৫অ২ ও ঙঈঅ২-এর মতো কয়েকটি জিন ত্বকের রঙ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে কোনো একটি জিন একাই গায়ের রঙ ঠিক করে না। বরং বহু জিনের সম্মিলিত প্রভাব এবং পরিবেশগত অভিযোজন এর জন্য দায়ী।

বিশেষজ্ঞদের মতে, গায়ের রঙ মানুষের সৌন্দর্য, বুদ্ধিমত্তা বা সক্ষমতার মানদ- নয়। এটি কেবল জিনগত বৈচিত্র্য ও প্রকৃতির সঙ্গে দীর্ঘদিনের অভিযোজনের ফল। তাই ত্বকের রঙ নিয়ে হীনমন্যতা বা বৈষম্যের বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। বরং সব ধরনের ত্বকের রঙই মানুষের স্বাভাবিক ও মূল্যবান বৈচিত্র্যের অংশ।