৭৯ হাজার শিক্ষার্থী পেল প্রাথমিক বৃত্তি, ট্যালেন্টপুল ৩২ হাজার ৯৬৫

প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৫-এর ফল প্রকাশ করা হয়েছে। এবার সারা দেশে মোট ৭৯ হাজার ২৪৬ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি পেয়েছে। এর মধ্যে ট্যালেন্টপুল বৃত্তি পেয়েছে ৩২ হাজার ৯৬৫ জন এবং সাধারণ বৃত্তি পেয়েছে ৪৬ হাজার ২৮১ জন। বৃত্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে ছাত্র রয়েছে ৩৫ হাজার ৮৯২ জন, যা মোটের ৪৫ দশমিক ২৯ শতাংশ। অন্যদিকে ছাত্রী রয়েছে ৪৩ হাজার ৩৫৪ জন, যা ৫৪ দশমিক ৭১ শতাংশ।

রবিবার (১২ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এ তথ্য জানান।

মন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীদের মেধা অন্বেষণ, স্বীকৃতি প্রদান এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে উৎসাহিত করে জ্ঞানভিত্তিক প্রজন্ম গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৫ অনুষ্ঠিত হয়।

প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা নীতিমালা ২০২৬ অনুযায়ী, সারা দেশে মোট ৮২ হাজার ৫০০টি বৃত্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত ছিল। এর মধ্যে ৩৩ হাজার ট্যালেন্টপুল এবং ৪৯ হাজার ৫০০টি সাধারণ বৃত্তি। ট্যালেন্টপুল বৃত্তির ক্ষেত্রে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য ৮০ শতাংশ এবং বেসরকারি বিদ্যালয়ের জন্য ২০ শতাংশ কোটা নির্ধারণ করা হয়।

এ ছাড়া সাধারণ বৃত্তির ক্ষেত্রে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য ৩৯ হাজার ৬০০টি বৃত্তি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডভিত্তিক বরাদ্দ রাখা হয়। প্রতিটি ইউনিটে দুইজন ছাত্র, দুইজন ছাত্রী এবং একজন মেধার ভিত্তিতে নির্বাচিত শিক্ষার্থীকে বৃত্তি দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। পাশাপাশি বেসরকারি বিদ্যালয়ের জন্য উপজেলাভিত্তিক ২০ শতাংশ সাধারণ বৃত্তি সংরক্ষিত রয়েছে।

এবারের পরীক্ষায় মোট ৭৮ হাজার ৮১০টি বিদ্যালয় অংশ নেয়। এর মধ্যে সরকারি বিদ্যালয় ছিল ৬৫ হাজার ৬০৫টি এবং বেসরকারি বিদ্যালয় ১৩ হাজার ২০৫টি। মোট নিবন্ধিত পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ৬ লাখ ৪৫ হাজার ৪১ জন। এর মধ্যে ছাত্র ২ লাখ ৫৬ হাজার ১১৭ জন এবং ছাত্রী ৩ লাখ ৮৮ হাজার ৯২৪ জন।

পরীক্ষায় উপস্থিত ছিল মোট ৪ লাখ ১৯ হাজার ৯৮২ জন শিক্ষার্থী, যা নিবন্ধিত পরীক্ষার্থীর ৬৫ দশমিক ১১ শতাংশ। সরকারি বিদ্যালয় থেকে অংশ নেয় ৩ লাখ ৪৪ হাজার ১২৭ জন এবং বেসরকারি বিদ্যালয় থেকে ৭৫ হাজার ৮৫৫ জন। উপস্থিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছাত্র ছিল ১ লাখ ৬৬ হাজার ৬৪১ জন এবং ছাত্রী ছিল ২ লাখ ৫৩ হাজার ৩৪১ জন।

ট্যালেন্টপুল বৃত্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে সরকারি বিদ্যালয়ের ২৬ হাজার ৩৭৫ জন এবং বেসরকারি বিদ্যালয়ের ৬ হাজার ৫৯০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। অন্যদিকে সাধারণ বৃত্তিপ্রাপ্ত ৪৬ হাজার ২৮১ জনের মধ্যে সরকারি বিদ্যালয়ের ৩৬ হাজার ৪২০ জন এবং বেসরকারি বিদ্যালয়ের ৯ হাজার ৮৬১ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি অর্জন করেছে।

এদিকে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর জানিয়েছে, মিরপুরে অধিদপ্তরের সার্ভারে বৃত্তির ফলাফল আপলোডের কাজ শুরু হয়েছে। পুরো ফল অনলাইনে প্রকাশ করতে প্রায় ২ থেকে ৩ ঘণ্টা সময় লাগতে পারে।

উল্লেখ্য, এবারের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় ৬ লাখ ৪০ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী অংশ নেয়। তাদের মধ্যে প্রায় সাড়ে ৫ লাখ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এবং প্রায় ৯০ হাজার বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কিন্ডারগার্টেনের শিক্ষার্থী ছিল।