কক্সবাজারের সদর, রামু ও ঈদগাঁওয়ের বন্যার পানি কিছুটা স্থিতিশীল রয়েছে। তবে চকরিয়া, পেকুয়া ও মাতামুহুরী উপজেলার বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত থাকলেও মাতামুহুরী নদীর পানি বিপদসীমার নিচে অবস্থান করছে। তবে বন্যা দুর্গত এলাকায় খাবার ও বিশুদ্ধ পানির চরম সংকট দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়রা জানায়, পানির কারণে ঘর থেকে বের হতে পারছেন না। এলাকায় সরকারি ত্রাণও পর্যাপ্ত নয়। এর মধ্যে অনেকেই কোন প্রকার ত্রাণ না পেয়ে কষ্টে দিন পার করছেন। সবমিলিয়ে বন্যা দুর্গত এলাকায় হাহাকার চলছে।
বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কমে যাওয়ায় জেলার সদর, রামু ও ঈদগাঁওয়ের নিম্নাঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকার পানি নেমে গেছে। তবে দুর্ভোগ কাটেনি ওইসব দুর্গত এলাকার মানুষের।
এদিকে টানা ভারি বর্ষণে উজানী অঞ্চলের পানি কিছুটা কমলেও নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতার কারণে চকরিয়া, পেকুয়া ও নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলায় অন্তত ১৮টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার অন্তত কয়েক লাখ মানুষ এখনো চরম দুর্ভোগে রয়েছেন। অনেকেই এখনো পানিবন্দী অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন। বন্যা কবলিত এলাকায় দেখা দিয়েছে খাদ্য ও বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকট।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যমতে, বান্দরবানের লামা ও আলীকদম উপজেলা থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে মাতামুহুরী নদীর পানি এখন বিপদসীমার নিচে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে এর আগে পানি বিপদসীমার উপরে প্রবাহিত হওয়ায় তীব্র স্রোতের কারণে পেকুয়া উপজেলার ভোলাইয়াখাল এবং মাতামুহুরী উপজেলার কোনাখালী ইউনিয়নের পুরুত্যাখালী ও মরণঘোনা এলাকার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বেড়িবাঁধ ভেঙে গেছে। প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যার পানিতে চকরিয়া-মহেশখালী সংযোগ সড়কসহ অঞ্চলের অভ্যন্তরীণ গ্রামীণ সড়কগুলো তলিয়ে যাওয়ায় যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।
কক্সবাজার জেলা প্রশাসন কার্যালয়ের দেওয়া তথ্য মতে, এখন পর্যন্ত জেলায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ১ লাখ ৫০ হাজার ৬৬২ জন। ৬৪০টি আশ্রয় কেন্দ্রে ১৪ হাজার ৬১ জন আশ্রয় নিয়েছে। সরকারিভাবে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ৪৫০ মেট্রিক টন চাল এবং ৩০ লাখ নগদ টাকার পাশাপাশি শুকনো খাবার বিতরণসহ জরুরি চিকিৎসার দেওয়া হচ্ছে।
কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সহকারি আবহাওয়াবিদ আব্দুল হান্নান জানান, গত ২৪ ঘন্টায় কক্সবাজারে ১১৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। সতর্ক সংকেত না থাকলেও আরও বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। চকরিয়া এলাকায় অতি ভারি বর্ষণ হলেও এখানে আবহাওয়া অফিস না থাকায় বৃষ্টি পরিমাণের বিষয়ে কিছু জানাতে পারেনি তিনি।