ব্যবসা পরিচালন সহজীকরণ ও ব্যয় হ্রাসকল্পে চার দিনের মধ্যে পণ্য শল্কায়ন সম্পন্ন ও বন্দর থেকে খালাসে অর্থমন্ত্রীর নির্দেশনা সত্ত্বেও চট্টগ্রাম বন্দর থেকে পণ্য খালাসের প্রক্রিয়া কাক্সিক্ষত গতিশীলতা পাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বরাবর পাঠানো এক চিঠিতে তিনি এর জন্য কাস্টমস কর্মকর্তাদের অসহযোগিতা, সদিচ্ছার অভাব, প্রশাসনিক সমন্বয়হীনতা এবং অকারণ দীর্ঘসূত্রতাকে দায়ী করেছেন।
গতকাল রবিবার পাঠানো ওই চিঠিতে চেম্বার সভাপতি বলেন, সম্প্রতি অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী তার চট্টগ্রামের বাসভবনে ব্যবসায়ী নেতা, কাস্টমস ও বন্দর প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভা করেন। সভায় তিনি চার দিনের মধ্যে পণ্য শুল্কায়ন সম্পন্ন ও বন্দর থেকে খালাসের নির্দেশনা দিয়েছিলেন। বন্দরের কার্যক্রমে গতিশীলতা আনা এবং জাহাজ ও পণ্যজট হ্রাসের লক্ষ্যে বন্দরের অচল স্ক্যানার মেশিনগুলো সচল করাসহ আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দেন, যা দ্রুত পণ্য খালাসের সঙ্গে আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীদের খরচ কমাতে সহায়ক। কিন্তু অর্থমন্ত্রীর নির্দেশনা সত্ত্বেও এখনো ক্ষেত্র বিশেষে কাস্টমস কর্মকর্তাদের অসহযোগিতা, স্বদিচ্ছার অভাব, প্রশাসনিক সমন্বয়হীনতা ও অকারণ দীর্ঘসূত্রিতার কারণে পণ্য খালাসপ্রক্রিয়া কাক্সিক্ষত গতিশীলতা পাচ্ছে না।
চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয় বিভিন্ন সংস্থা কর্তৃক একই পণ্যের বারবার পরীক্ষা, কনটেইনার স্ক্যানিং করার পরও গোপন সংবাদের দোহাই দিয়ে ফের কায়িক পরীক্ষা, স্থানীয় রাসায়নিক পরীক্ষার সুযোগের সীমাবদ্ধতার অজুহাতে ল্যাব টেস্টের নামে ঢাকায় প্রেরণ, সিগনেচার যাচাই করার নামে পণ্য শুল্কায়নে বিলম্ব করা, কনটেইনার আনস্টাফিংয়ের সময় অপ্রয়োজনীয় কাগজপত্র চেকিং বাধ্যতামূলক নয় এমন অনেক পণ্য বিএসটিআই টেস্টের জন্য প্রেরণসহ আরও অনেক অকারণ জটিলতা সৃষ্টি করার ফলে ক্ষেত্র বিশেষে সাত থেকে আট দিন বা আরও বেশি সময় লাগছে।
চেম্বার সভাপতি বলেন, এসব কর্মকা-ের মাধ্যমে পণ্য খালাস ব্যবস্থাকে আরও জটিল ও সময়সাপেক্ষ করে তোলা হচ্ছে, যা ব্যবসা সহজীকরণের পথে অনেক বড় বাধা। এ ছাড়া পণ্য খালাস কার্যক্রম বিলম্বিত হওয়ায় অতিরিক্ত সময়ের মাশুল প্রদান, বিভিন্ন টেস্ট ও ডকুমেন্টের জন্য অতিরিক্ত খরচ পণ্যের মূল্যের সঙ্গে যুক্ত হয়ে ব্যবসা পরিচালনার খরচ এবং পণ্যের মূল্য উভয়ই বৃদ্ধি করছে। যে কারণে আন্তর্জাতিক স্ট্যান্ডার্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কাস্টমস আইন, ২০২৩ ঘোষিত হলেও পেপারলেস কাস্টমস, প্রি-অ্যারাইভাল প্রসেসিং, রিস্ক বেইজড এক্সামিনেশন ইত্যাদি পদ্ধতি অনুসরণের মাধ্যমে দ্রুত কাস্টমস ক্লিয়ারেন্সের সুফল ব্যবসায়ীরা পাচ্ছেন না।