ফেরিকাণ্ডে যা বললেন হান্নান মাসউদ

নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার বয়ারচর চেয়ারম্যান ঘাট থেকে নলচিরা ঘাটের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া যাত্রী ও মালবাহী ফেরি  ‘মহানন্দা ’ মাঝনদী থেকে ঘুরিয়ে আবার ঘাটে ফিরিয়ে আনা হয়।

অভিযোগ উঠেছে, নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনের সংসদ সদস্য ও এনসিপির  জেষ্ঠ্য যুগ্ম সমন্নয়ক আবদুল হান্নান মাসউদকে বহন করতেই নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী ছেড়ে যাওয়া ফেরি ‘মহানন্দা’ মাাঝনদী  থেকে ঘাটে ফিরিয়ে আনা হয়। এঘটনায় ফেরিতে থাকা যাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয় এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ স্থানীয় মহলে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

১১ জুলাই বিকেলে এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন ফেরির মেরিন ইঞ্জিনিয়ার সাজ্জাদুল ইসলাম।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ফেরির একাধিক যাত্রী বলেন, ফেরি মাঝনদী থেকে হঠাৎ ফিরে আসায় আমরা বিস্মিত হই। পরে দেখি এমপি ও তার সঙ্গে থাকা লোকজন ফেরিতে উঠছেন। বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে এমন সিদ্ধান্ত আমাদের জন্য উদ্বেগের ছিল। এতে সময়ও নষ্ট হয়েছে।

ঘটনার পরদিন রবিবার (১২ জুলাই) দুপুরে এক সংবাদ বিবৃতিতে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদ। তিনি বলেন, সরকারি কাজের উদ্দেশ্যে চেয়ারম্যান ঘাটে পৌঁছানোর সময় ফেরিটি প্রায় দুই মিনিট আগে ছেড়ে যায়। তবে তখনও ফেরিটি ঘাট এলাকা থেকে খুব বেশি দূরে যায়নি। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানালে তারা ফেরিটিকে ঘাটে ফিরিয়ে এনে তাকে উঠিয়ে নেয়।

সংসদ সদস্য বলেন, বৈরী আবহাওয়ার কারণে ফেরি ছাড়া অন্য সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ থাকায় বিকল্প কোনো যাতায়াতের সুযোগ ছিল না। এ অবস্থায় ফেরি কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করেছে।

তার দাবি, একটি মহল ঘটনাটিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে।

তিনি বলেন, জনগণের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তিনি দায়িত্ব পালন করে আসছেন এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে।

এদিকে ফেরির মেরিন ইঞ্জিনিয়ার সাজ্জাদুল ইসলাম বলেন, এমপি আবদুল হান্নান মাসউদ আগেই ফেরির মাস্টারকে ফোন দিয়ে তার আসার বিষয়টি জানিয়েছিলেন। তবে ফেরির পূর্ববর্তী মাস্টার সম্প্রতি অন্যত্র বদলি হওয়ায় নতুন মাস্টারের মোবাইল নম্বর এমপির কাছে ছিল না। ফলে নির্ধারিত সময়েই ফেরি ঘাট ছেড়ে যায়। ঘাট ছাড়ার কিছুক্ষণ পর এমপি ঘাটে পৌঁছান। ওই সময় আমি ঘটনাস্থলে ছিলাম। এমপির অনুরোধে ঘাট ইনচার্জের সঙ্গে কথা বলে ফেরির মাস্টারের সঙ্গে যোগাযোগ করি। পরে ফেরিটি ঘাটে ফিরিয়ে এনে এমপিকে ওঠার ব্যবস্থা করি।

সাজ্জাদুল ইসলাম বলেন, রোগী, অ্যাম্বুলেন্স ও ভিআইপিদের ক্ষেত্রে কিছু নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করতে হয়। সেই নিয়ম অনুযায়ী ফেরিটি ঘাটে ফিরিয়ে আনা হয়েছিল। এছাড়া বৈরী আবহাওয়ার কারণে পরবর্তীতে আর কোনো নৌযান চলাচল করছিল না।