অতিবৃষ্টির কারণে দেশের বিভিন্ন জেলার বন্যা পরিস্থিতি দিনকে দিন খারাপের দিকে যাচ্ছে। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, সিলেট, হবিগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলা প্লাবিত হচ্ছে। এর মধ্যে আবার পাহাড় ধ্বসের মতো ঘটনাও ঘটেছে। প্রাকৃতিক এই দুর্যোগে লাখো মানুষ পানিবন্দি। প্রাণহানির সংখ্যা ছাড়িয়েছে অর্ধশত। এমন প্রাকৃতিক দুর্যোগে অন্যদের মতো বিষণ্ণ তারকারাও। সহমর্মিতার পাশাপাশি বন্যার্ত মানুষের পাশে সহযোগিতা নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার আহবান জানাচ্ছেন তারা।
লাক্স তারকা মেহজাবীন চৌধুরী ফেসবুকে লিখেছেন, ‘বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যা ও ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত সকল মানুষের জন্য আন্তরিক দোয়া রইল। এই কঠিন সময়ে যারা নিজেদের প্রিয়জন, ঘরবাড়ি বা জীবিকার ক্ষতির মুখোমুখি হয়েছেন, আল্লাহ যেন তাদের ধৈর্য ও শক্তি দান করেন। যারা উদ্ধার ও ত্রাণকাজে নিরলস পরিশ্রম করছেন, তাদের প্রতিও গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা। আসুন, আমরা সবাই যার যার সামর্থ্য অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াই। আশা করি খুব শিগগিরই পরিস্থিতির উন্নতি হবে এবং সবাই নিরাপদে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন। আল্লাহ বাংলাদেশকে হেফাজত করুন।’
চট্টগ্রামের সন্তান টিভি অভিনেতা ইরফান সাজ্জাদ লিখলেন, ‘আমার চট্টগ্রাম ভালো নাই! বাঁশখালি, সাতকানিয়া, চকরিয়া, লোহাগাড়া, কক্সবাজার, বান্দরবন ভালো নাই! অথচ মেজর কোনো নিউজ নাই! কোন আওয়াজ নাই! মানুষগুলো নীরবে মরে যাচ্ছে কষ্ট পাচ্ছে, কবর থেকে লাশ ভেসে যাচ্ছে! কুমিল্লা-নোয়াখালী-ফেনীর বন্যার সময় এই চট্টগ্রামের মানুষজন যার যা কিছু ছিল, তা নিয়ে উদ্ধার করতে গিয়েছিল! আজকে এই বন্যাপীড়িত মানুষগুলোকে উদ্ধারে মানুষের তেমন কোনো সাড়াশব্দ নাই, কোনো আওয়াজ নাই! আল্লাহ আপনি রহম করেন।’
তরুণ অভিনেত্রী তানজিম সাইয়ারা তটিনী লিখেছেন, ‘চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, সিলেট, হবিগঞ্জসহ দেশের ৭টির বেশি জেলা এখন পানির নিচে। হাজারো ঘর-বাড়ি তলিয়ে গেছে। মানুষ ছাদে, আশ্রয়কেন্দ্রে না খেয়ে দিন কাটাচ্ছে। আমরা যারা ভালো আছি তাদের দায়িত্ব তাদের পাশে দাঁড়ানো। এক প্যাকেট শুকনো খাবার, এক বোতলপানি অনেক বড় সাহায্য হতে পারে। ভালো আশ্রয়স্থলে স্থান নিন এবং অন্যকে যতটুক সম্ভব সাহায্য করুন। আল্লাহ বন্যাদুর্গত সবাইকে হেফাজত করুন। আমিন।’
কণ্ঠশিল্পী সাবরিনা পড়শী লিখেছেন, ‘দেশের বিভিন্ন এলাকার বন্যার ছবি ও ভিডিওগুলো দেখে মনটা সত্যিই খুব খারাপ হয়ে যাচ্ছে। কত মানুষ আজ ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে, কত পরিবার খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকটে- ভাবলেই কষ্ট লাগে। এই কঠিন সময়ে যার যতটুকু সামর্থ্য আছে, আসুন নিজের জায়গা থেকে পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করি। আমাদের কাছে ছোট মনে হওয়া সাহায্যটুকুও হয়তো কারও জন্য এই মুহূর্তে অনেক বড় ভরসা হতে পারে। বন্যাকবলিত এলাকার সবাই নিরাপদে থাকুন এবং আশেপাশের মানুষগুলোর খেয়াল রাখুন। আল্লাহ সবাইকে হেফাজত করুন এবং দ্রুত এই দুর্যোগ থেকে মুক্তি দিন। আমিন।’