আল-কুদস কোরআন প্রতিযোগিতায় ফিলিস্তিনি ভাইবোনের শীর্ষস্থান অর্জন

যুদ্ধ, দখল ও অনিশ্চয়তার মধ্যেও ফিলিস্তিনিদের জীবন থেমে নেই। প্রতিদিনের সংগ্রামের পাশাপাশি তারা আঁকড়ে ধরে রেখেছে পবিত্র কোরআন। কোরআন দিশারী, কোরআন আলো জ্বেলে পথ দেখায়। সেই আলোর পথেই নতুন এক অনুপ্রেরণার গল্প লিখেছেন ফিলিস্তিনি ভাইবোন মুহাম্মদ ইয়াসের মানসুর ও ইলমি ইয়াসের মানসুর। আল-কুদস কোরআন প্রতিযোগিতা ২০২৬-এ তারা নিজ নিজ বিভাগে প্রথম স্থান অর্জন করে সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। 

ইন্টারন্যাশনাল কোরআন নিউজ এজন্সির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, আল-কুদসের উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন আঞ্চলিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। এতে ছেলেদের বিভাগে মোহাম্মদ ইয়াসের মানসুর এবং মেয়েদের বিভাগে ইলমি ইয়াসের মানসুর প্রথম স্থান লাভ করেন।

একই পরিবারের দুই সন্তানের এমন সাফল্য স্থানীয় মানুষের মধ্যে আনন্দের আবহ তৈরি করে। অনেকেই এটিকে কঠিন বাস্তবতার মধ্যেও কোরআনের সঙ্গে ফিলিস্তিনি সমাজের গভীর সম্পর্কের প্রতীক হিসেবে দেখছেন।

এই অর্জনের পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের অধ্যবসায়, নিয়মিত তেলাওয়াত, মুখস্থ এবং পারিবারিক উৎসাহ। ফিলিস্তিনের বহু পরিবার সন্তানদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি কোরআন শিক্ষাকেও সমান গুরুত্ব দিয়ে থাকে। নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও সেই ধারাবাহিকতা বজায় রয়েছে।

এদিকে প্রতিযোগিতার সময়েও পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযান ও গ্রেপ্তার অব্যাহত ছিল। বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ফিলিস্তিনি তরুণদের আটক করা হয়। এমন পরিস্থিতি ফিলিস্তিনিদের দৈনন্দিন জীবনকে আরও কঠিন করে তুললেও ধর্মীয় শিক্ষা ও কোরআনচর্চার কার্যক্রম পুরোপুরি থেমে যায়নি।

গাজা উপত্যকায়ও একই চিত্র দেখা যায়। দীর্ঘ যুদ্ধ, ধ্বংসস্তূপ এবং মানবিক সংকটের মধ্যেও সেখানে কোরআন মুখস্থ ও তেলাওয়াতের বিভিন্ন কর্মসূচি চলতে থাকে। যুদ্ধের আগেই গাজায় প্রায় ৫৫ হাজার নারী ও পুরুষ পূর্ণ হাফেজে কোরআন ছিলেন, যা অঞ্চলটির শক্তিশালী কোরআন শিক্ষার ঐতিহ্যের পরিচয় বহন করে।