ফিলিস্তিনিদের বাঁচার শক্তি জোগাচ্ছে খান ইউনিসের কোরআনিক স্কুল

আপডেট : ১২ জুলাই ২০২৬, ০৯:০৮ পিএম

দীর্ঘদিনের যুদ্ধ, বাস্তুচ্যুতি, ক্ষুধা ও স্বজন হারানোর বেদনায় বিপর্যস্ত গাজার মানুষের জীবনে নতুন আশার আলো জ্বালানোর চেষ্টা করছে খান ইউনিসের নুর কোরআনিক স্কুল। ইসরায়েলি আগ্রাসনে বিধ্বস্ত জনপদে কোরআনের শিক্ষা, নৈতিক মূল্যবোধ ও মানসিক পুনর্গঠনের মাধ্যমে শিশু, নারী ও প্রবীণদের জীবনে নতুন উদ্দীপনা ফিরিয়ে আনতে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি। 

ফিলিস্তিন অনলাইনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খান ইউনিসের আংশিক ধ্বংসপ্রাপ্ত একটি মসজিদে পরিচালিত এই স্কুলে প্রতিদিন অসংখ্য শিক্ষার্থী কোরআন তেলাওয়াত ও মুখস্থ করার আসরে অংশ নেয়। তাদের অনেকেই যুদ্ধের কারণে ঘরবাড়ি ও প্রিয়জন হারিয়েছে। তবুও কোরআনের সান্নিধ্যে তারা খুঁজে পেয়েছে মানসিক প্রশান্তি এবং নতুন করে বেঁচে থাকার শক্তি।

স্কুলের শিক্ষার্থী হুদা আল-ফারা বলেন, যুদ্ধ তাদের বহু বছরের পরিশ্রমে গড়া বাড়ি ধ্বংস করে দিয়েছে এবং জীবনকে ওলটপালট করে দিয়েছে। তারা তাঁবুতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন। কিন্তু কোরআনের আশ্রয়ে তারা আবারও ঘুরে দাঁড়ানোর শক্তি পেয়েছেন। তার ভাষায়, কোরআনের শিক্ষা তাদের কঠিন সময়েও ধৈর্য ও আশা ধরে রাখতে সহায়তা করছে।

একজন মেয়ে শিক্ষার্থী কোরআন মুখস্থ শুনাচ্ছেন শিক্ষিকার কাছে। ছবি: সংগৃহীত

১৪ বছর বয়সী রাশা আল-ফারা জানান, যুদ্ধের আগে তিনি চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন। কিন্তু বাস্তুচ্যুতি, বোমাবর্ষণ, ক্ষুধা ও অনিশ্চয়তা তার শৈশব বদলে দিয়েছে। তিনি ও তার মা একসঙ্গে কোরআন মুখস্থ করার জন্য এই স্কুলে যোগ দিয়েছেন। সব প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি একটি সুন্দর ভবিষ্যতের আশা ছাড়েননি।

নুর কোরআনিক স্কুলের প্রধান রামি আল-শাকরা বলেন, যুদ্ধোত্তর সময়ে ফিলিস্তিনিদের মানসিক ও শিক্ষাগত পুনর্গঠনের লক্ষ্য নিয়েই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে কেন্দ্রটিতে প্রায় ৮০০ শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। তাদের মধ্যে ছোট শিশু থেকে শুরু করে ষাটোর্ধ্ব প্রবীণরাও রয়েছেন। 

ছেলে শিক্ষার্থীরা কোরআন মুখস্থ করছে। ছবি: সংগৃহীত

তিনি জানান, এখানে কোরআন মুখস্থ করানোর পাশাপাশি অভিজ্ঞ পরামর্শক ও মনোবিজ্ঞানীদের তত্ত্বাবধানে মানসিক সহায়তা, কাউন্সেলিং এবং আবেগগত পুনর্বাসনের ব্যবস্থাও রয়েছে। কোরআনের কাহিনি, সাহাবায়ে কেরামের জীবন ও ইসলামি ইতিহাসের আলোকে পরিচালিত পাঠক্রম শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস, নৈতিকতা ও প্রতিকূলতা মোকাবিলার শক্তি গড়ে তুলতে সহায়তা করছে।

আল-শাকরা আরও বলেন, ৬০ জনের বেশি শিক্ষক ও হাফেজ এই প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালন করছেন। তার মতে, গাজার মানুষের প্রকৃত পুনরুদ্ধার শুরু হবে আত্মিক পুনর্গঠনের মাধ্যমে। সেই লক্ষ্যেই নুর কোরআনিক স্কুল যুদ্ধবিধ্বস্ত মানুষের জন্য আশা, ইমান ও মানবিক পুনর্জাগরণের এক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত