রাজধানী ঢাকার ৪১৬ বছরপূর্তি ও ১ আগস্টের ঐতিহাসিক ‘ঢাকা দিবস’ উপলক্ষে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) উদ্যোগে আগামী ৩১ জুলাই থেকে ৭ আগস্ট পর্যন্ত আট দিনব্যাপী ‘হৃদয়ে ঢাকা’ শীর্ষক বর্ণাঢ্য কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। ঢাকার ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, পরিবেশ সচেতনতা ও নগর ব্র্যান্ডিংকে বিশ্বদরবারে নতুন উচ্চতায় তুলে ধরার লক্ষ্যেই এ উৎসবের আয়োজন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস সালাম।
গতকাল সোমবার নগরভবনের অডিটরিয়ামে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, ‘হৃদয়ে ঢাকা’ কেবল একটি উৎসব নয়; এটি ঢাকার ঐতিহ্য পুনর্জাগরণ এবং পরিচ্ছন্ন-সবুজ নগরী গড়ে তোলার একটি দীর্ঘমেয়াদি নাগরিক আন্দোলন। ৩১ জুলাই ভোরে অনুষ্ঠিত হবে ‘ঢাকা হেরিটেজ সাইকেল র্যালি’। একই দিন বিকেলে হাতি, ঘোড়ার গাড়ি, পালকিসহ নানা ঐতিহ্যবাহী অনুষঙ্গ নিয়ে বের হবে বর্ণাঢ্য ‘ঢাকা শোভাযাত্রা’।
শনিবার (১ আগস্ট) ‘ঢাকা দিবস’ উপলক্ষে ভোরে আয়োজন করা হবে ‘ঢাকা হেরিটেজ ম্যারাথন’। বিকেল ৪টায় লালবাগ কেল্লায় উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের। একই সঙ্গে ‘ক্লিন সিটি, গ্রিন সিটি’ কর্মসূচির আওতায় বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান, মশক নিধন ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হবে।
রবিবার (২ আগস্ট) লালবাগ কেল্লায় অনুষ্ঠিত হবে ঘুড়ি উৎসব, বিশেষ ‘ঢাকা আড্ডা’ এবং সন্ধ্যায় ঐতিহ্যবাহী কাওয়ালিসহ মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এ ছাড়া সোমবার (৩ আগস্ট) বুড়িগঙ্গা নদীতে খোলামোড়াঘাট থেকে ওয়াইজঘাট পর্যন্ত আয়োজন করা হবে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ।
১-৭ আগস্ট পর্যন্ত সপ্তাহজুড়ে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে থাকবে নানা আয়োজন। এর মধ্যে রয়েছে মধুমিতা সিনেমা হলে ঢাকাকে নিয়ে নির্মিত পুরনো চলচ্চিত্র প্রদর্শনী; বাংলাদেশ টেলিভিশনে (বিটিভি) বিশেষ নাটক ও অনুষ্ঠান সম্প্রচার; বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে মঞ্চনাটক, আর্ট ক্যাম্প ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা; রাজধানীর বিভিন্ন বিপণিবিতানে ‘দ্য গ্রেট ঢাকা সেল’; সদরঘাট থেকে ঐতিহ্যবাহী নৌযানে ‘হেরিটেজ ক্রুজ’ ভ্রমণ।
ডিএসসিসি প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম বলেন, ১৬১০ সালে সুবাহ বাংলার রাজধানী হিসেবে ঢাকার যাত্রা শুরু হয়। পরে ১৮৬৪ সালের ১ আগস্ট ঢাকা পৌরসভা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আধুনিক নগর প্রশাসনের পথচলা শুরু হয়, যার ধারাবাহিকতায় আজকের ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। এ কারণেই ১ আগস্টকে ‘ঢাকা দিবস’ হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থান থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান বাংলাদেশের প্রতিটি গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসের সাক্ষী এ ঢাকা। সেই ঐতিহ্য ধারণ করেই একটি পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও আধুনিক রাজধানী গড়ে তোলাই ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের লক্ষ্য।
প্রতিকূল আবহাওয়া পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে প্রশাসক বলেন, দেশের সার্বিক আবহাওয়া পরিস্থিতির উন্নতি হলে নির্ধারিত সময়েই উৎসব অনুষ্ঠিত হবে। তবে পরিস্থিতির অবনতি হলে প্রধানমন্ত্রীর অনুমতি সাপেক্ষে কর্মসূচির সূচিতে পরিবর্তন আনা হতে পারে। এ প্রাণের উৎসব অবশ্যই উদযাপন করা হবে।