ফুটবলারকে বানানো হলো মাদক কারবারি

রাজধানীর রমনা এলাকার পিডব্লিউডি স্টাফ কোয়ার্টার এলাকায় গত এপ্রিলে মাদকবিরোধী অভিযান চালায় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। সে সময় গ্রেপ্তার হন ডিবিতে কর্মরত কনস্টেবল জাহাঙ্গীর আলম। তার সহযোগী দাবি করেন সালমান হোসেন নামে এক যুবককেও গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন ২৯ এপ্রিল রমনা থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে জাহাঙ্গীর ও সালমানসহ অজ্ঞাত আরেকজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন ডিবির খিলগাঁও জোনাল টিমের উপপরিদর্শক ফারুক হোসেন।

সালমান হোসেন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন ভবনের বলবয়। তিনি নিজেও ফুটবল খেলোয়াড় বলে জানিয়েছে পরিবার। তার বাবার অভিযোগ, ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানো হয়েছে। সালমান নিজের এলাকায় তেমন অবস্থান করেন না। যেটুকু সময় থাকেন তখনো এলাকার বিভিন্ন ব্যক্তির অনুরোধে টাকার বিনিময়ে ফুটবল ম্যাচে অংশ নিতে ব্যস্ত থাকেন।

সালমানের বাবা মনির হোসেন জানান, ২৭ এপ্রিল রাতে জাহাঙ্গীর একাধিকবার কল করে সালমানকে তার গ্রামের বাড়ি খেলতে যাওয়ার অনুরোধ করেন। এ ব্যাপারে বিস্তারিতে আলোচনার জন্য মগবাজার গিয়ে দেখা করতে বলেন। রাত ৩টার দিকে সবশেষ ১৯ সেকেন্ড কথা হয় তাদের। এরপর থেকে সালমান নিখোঁজ ছিলেন। পরে আদালতে গিয়ে জানতে পারেন ডিবির মতিঝিল বিভাগের খিলগাঁও টিম তাকে মাদকসহ গ্রেপ্তার করেছে।

সালমানের পরিবার ফকিরাপুল কমরগলিতে একটি বাসায় ভাড়া থাকে। মনির হোসেন জানান, ২৭ এপ্রিল রাত ৩টার দিকে সালমানের সঙ্গে ফোনে তার শেষ কথা হয়। এরপর মোবাইল ফোনে আর যোগাযোগ করা যায়নি। ২৮ তারিখ রাতে সালমান নিজের ফোন খুলে জানান, তাকে মিন্টো রোডে নিয়ে আসা হয়েছে। পরদিন সকালে আদালতে তোলা হবে।

মনির হোসেন বলেন, ‘পরদিন কোর্টে গিয়ে দেখি ডিবির এসআই জাহাঙ্গীর ও ছেলে সালমানের হাতে হ্যান্ডকাপ পরানো। এরপর সাত দিন রিমান্ড শেষে ওকে কেরানীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়।’

এ ব্যাপারে ডিবির মতিঝিল বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার রফিউদ্দিন মো. জোবায়ের দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এটি তদন্তাধীন বিষয়। তদন্ত চলাকালীন কিছু বলতে পারব না। কিছু জানার থাকলে ডিবি চিফের কাছ থেকে জানতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা তাদের হাতেনাতে ধরেছি। মাদককারবারে যার সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যাচ্ছে তাকেই গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। গেপ্তার হওয়া জাহাঙ্গীর ডিবিতে কর্মরত কনস্টেবল। প্রথমে জাহাঙ্গীরসহ দুজনকে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। তাদের তথ্যে অন্য সহযোগীদের নামও পাওয়া গেছে।’

তবে সালমানের বাবা মনির হোসেন জানান, তার ছেলে মগবাজারে জাহাঙ্গীরের সঙ্গে যখন দেখা করতে যান তখন তার সঙ্গে কোনো ব্যাগ ছিল না। ছেলেকে এই ব্যাগ ধরিয়ে দিয়ে গ্রেপ্তারের নাটক সাজিয়েছে পুলিশ। তিনি বলেন, ‘সালমান এ ধরনের কাজে জড়িত থাকলে এলাকার সবাই তাকে খারাপ হিসেবে জানত। আমার নির্দোষ পোলারে জঘন্য একটা অপরাধে ফাঁসানো হইছে। ছেলের সম্পর্কে ফেডারেশনে যোগাযোগ করলে তারাও ভালো রিপোর্ট দেবে। গ্রেপ্তার হওয়ার আগ পর্যন্ত তার নামে কোনো থানায় কেউ কোনো মামলা দেখাতে পারবে না।’