টানা বৃষ্টি। ঘরে পানি ঢুকেছে। রবিবার সকাল থেকে চুলা জ¦লেনি রাজধানীর কড়াইল বস্তির অনেক পরিবারে। বিকেলে বৃষ্টি একটু কমলে, পানি নামা শুরু করে। কেউ কেউ বিকেল, সন্ধ্যা কিংবা রাতের দিকে হোটেল থেকে খাবার কিনে এনে খান। টানা দুই বেলা না খেয়ে কেটেছে বহু পরিবারের। বিকেলে বৃষ্টি কমলেও জিনিসপত্র ভেজা থাকায় অনেকেই বাসায় ঘুমাতে পারেননি। কেউ ঘুমিয়েছেন রিকশার গ্যারেজে, কেউ অন্যের দোকানে, আবার কেউ রাত কাটিয়েছেন অন্য এলাকায় আত্মীয়ের বাসায়।
একটু বেশি বৃষ্টি হলেই এমন দুর্ভোগে পড়তে হয় কড়াইল বস্তির বাসিন্দাদের। এখানে বাস করা অনেকেরই ‘দিন আনে, দিন খায়’ অবস্থা। রবিবার সারাদিন অনেকেই কাজে যেতে পারেননি। পারেননি রিকশা চালাতে। ফলে তাদের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হয়।
গতকাল সোমবার বিকেলে রাজধানীর গুলশান-বনানীর অভিজাত এলাকার কড়াইল বস্তিতে গিয়ে কয়েকজনের সঙ্গে কথা হয়। তারা জানান, একটু বেশি বৃষ্টি হলেই মুছাবাজার মন্দির এলাকা, ফলভাঙা, রহমানিয়া, বউবাজার, গুদারাঘাট, নৌকার ঘাট এসব এলাকায় পানি জমে যায়। এতে বেশি সমস্যায় পড়েন তারা, কাজে বের হতে পারেন না। আর কাজে বের হতে না পারলে তাদের পরিবারের খাওয়া-দাওয়ার ওপর চাপ তৈরি হয়।
পেশায় রিকশাচালক হৃদয়ের বাসা বেলতলা মসজিদের পাশে। সংসারে সদস্য তিনজন। তিনি বলেন, ‘কাল কা (রবিবার) ভয়াবহ অবস্থা ছিল। রাতে বাসায় থাকতি পারিনি। বউবাজারে এক আত্মীয়ের বাসায় আছিলাম। ভাবছিলাম পানি আরও বাড়বো। আল্লাহ রহম করছে। পানি আর বাড়েনি, নাইমা গেছেগা। এখন স্বাভাবিক। ঘরের মধ্যে পানি আছিলো। কালকা গাড়ি লইয়া বারইতে পারি নাই। আজকের (সোমবার) অর্ধেক বেলাও গাড়ি নিয়ে বারইতে পারি নাই। দুপুর পর্যন্ত যে বৃষ্টি হইছে, মনে করছি আজকা আবার কাল কার মতো পানি হইবো। কিন্তু আজ (সোমবার) তা হয়নি। দুপুরে বৃষ্টি কমার পর রিকশা নিয়ে বাইর হইছি।’
হৃদয় জানান, রবিবার বৃষ্টির জন্য সকাল থেকে সারাদিনে তাদের ঘরে চুলো জ¦লেনি। কেউ কাজে বের হতে পারেননি। বৃষ্টি কমলে মাগরিবের পর হোটেল থেকে রুটি কিনে খেয়ে রাত কাটান। সকাল ও দুপুরÑ দুই বেলা না খেয়ে ছিলেন। সোমবার রিকশা চালিয়ে যা আয় করবেন তা থেকে বাজার করে নেওয়ার পর রাতে ঘরে রান্না হবে।
কথা হয় শফিকুলের সঙ্গে। তিনি বলেন, রিকশা চালালে সংসার চলে। না চালালে সেই দিন সংসার চালাতে কষ্ট হয়। রবিবার সকাল থেকে সোমবার দুপুর পর্যন্ত বৃষ্টির কারণে খুবই দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে। বৃষ্টিতে ঘরের জিনিসপত্র ভিজে গেছে। সারাদিন খাবার খেতে পারেননি। রাতে তিনি গ্যারেজে ঘুমিয়েছেন। অন্যরা কষ্ট করে ঘরে ছিল।