সরকারের প্রস্তাবে রাজি আইএমএফ

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) বাংলাদেশ সরকারের প্রস্তাবিত কর্মসূচির বিষয়ে একমত হয়েছে বলে জানিয়েছেন, অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। গতকাল সোমবার মন্ত্রণালয়ে আইএমফের বাংলাদেশ ও হংকং-বিষয়ক মিশনপ্রধান ইভো ক্রজনারের সঙ্গে বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

অর্থমন্ত্রী বলেছেন, সরকারের আর্থিক সংস্কার ও রাজনৈতিক দায়িত্বশীলতার প্রতি আইএমএফ প্রতিনিধি সম্মান জানিয়েছে। বৈঠকে আইএমএফের সঙ্গে বাংলাদেশের আগামী দিনের নতুন কর্মসূচির ভিত্তি ও সিকোয়েন্সিং নিয়ে এবং নীতিমালার সার্বিক দিক নিয়ে আলোচনা হয়েছে ।

এর আগে গত ১২ জুলাই সচিবালয়ে আইএমফ প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেছেন, ‘আমাদের মূল চিন্তা টাকা পাওয়া নিয়ে নয়, বরং দেশের স্বার্থ রক্ষা করা। একটি নির্বাচিত সরকার হিসেবে বাংলাদেশের মানুষের এবং দেশের অর্থনীতির স্বার্থ সুরক্ষিত রাখাই আমাদের প্রধান অগ্রাধিকার। জনগণের অর্থনৈতিক স্বার্থ নিশ্চিত করে, এমন একটি নতুন প্রোগ্রামে আমরা যাচ্ছি। যে কর্মসূচিতেই আমরা যাই না কেন, সেখানে বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থ শতভাগ সংরক্ষিত থাকবে।’

গতকাল আইএমফ প্রতিনিধির সঙ্গে বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আইএমএফের সঙ্গে নতুন কর্মসূচি কোন ভিত্তির ওপর পরিচালিত হবে, তা পরিষ্কার করা হয়েছে এবং প্রস্তাবিত ভিত্তিসমূহের ওপর তারা সম্পূর্ণ একমত পোষণ করেছেন। সংস্কার কর্মসূচির ধারাবাহিকতা বজায় রেখে দেশের অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনা করে ধাপে ধাপে পরিবর্তনগুলো আনা হবে। রাতারাতি বা ওভারনাইট কোনো বড় পরিবর্তন সম্ভব নয় এবং আইএমএফ এ বিষয়ে সহমত প্রকাশ করেছে।’

তিনি বলেন, ‘দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে কোন সংস্কার কখন করা প্রয়োজন, সেই অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে ক্রমান্বয়ে পরিবর্তনগুলো বাস্তবায়ন করা হবে। আইএমএফ এই সিকোয়েন্সিংয়ের নীতিতে সায় দিয়েছে। এ ছাড়া একটি রাজনৈতিক সরকারের জনকল্যাণমূলক দায়বদ্ধতা আইএমএফ বিশেষভাবে সম্মান জানিয়েছে। দেশের মানুষের স্বার্থ অক্ষুণœ রেখেই অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তসমূহ গৃহীত হবে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান সরকারের চার মাসের মেয়াদে আর্থিক খাতের সংস্কার, শেয়ারবাজার ও ক্যাপিটাল মার্কেটের উন্নয়ন এবং রাজস্ব আদায়ে দৃশ্যমান অগ্রগতিতে আইএমএফ প্রতিনিধিদল সন্তোষ প্রকাশ করেছে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো মাত্র চার মাসে ট্যাক্স আদায়কে একটি বড় অর্জন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এই ইতিবাচক ধারা বজায় রেখে ট্যাক্স-জিডিপি অনুপাত আরও বাড়াতে সরকারের প্রস্তাবনাসমূহ নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে।’ অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে।

ভর্তুকি প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী জানান, এখনই সুনির্দিষ্ট ডিটেইলস বা শর্ত নিয়ে আলোচনা হয়নি। মূলত নতুন কর্মসূচির মূল ভিত্তি তৈরি নিয়ে কথা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে বিস্তারিত আলোচনার টেবিলে সব বিষয়গুলো আসবে।

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আরও জানান, এই আলোচনা একটি চলমান প্রক্রিয়া। আগামী সেপ্টেম্বর বা অক্টোবরে ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের বার্ষিক সভায় এ বিষয়ে পরে আলোচনা হবে। বর্তমান সরকারের সংস্কারমুখী পারফরম্যান্সে আইএমএফ সন্তুষ্ট এবং এই ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়েই আগামী দিনের নতুন প্রোগ্রাম চূড়ান্ত করা হবে।