চলন্ত ট্রেনে ঢিল ছোড়া ঠেকাতে রেলওয়ে পুলিশের প্রচারণা

চলন্ত ট্রেনে ঢিল বা পাথর নিক্ষেপের ঘটনা প্রতিরোধে পূর্বাঞ্চল রেলপথজুড়ে সচেতনতামূলক প্রচারণা শুরু করেছে রেলওয়ে পুলিশ। সাম্প্রতিক সময়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় চলন্ত ট্রেনে ঢিল ছোড়ার ঘটনায় যাত্রী আহত হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দিনব্যাপী আখাউড়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, তালশহর ও আশুগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন এবং আশপাশের এলাকায় এ প্রচারণা চালানো হয়।

রেলওয়ে পুলিশ জানায়, রেললাইনের আশপাশে বসবাসকারী মানুষ, বাজারের ব্যবসায়ী, স্টেশন-সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা এবং বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে লিফলেট বিতরণ করা হয়। লিফলেটে চলন্ত ট্রেনে ঢিল নিক্ষেপের ভয়াবহ পরিণতি, এতে যাত্রী ও রেলকর্মীদের জীবনহানির ঝুঁকি এবং এ ধরনের অপরাধের জন্য বিদ্যমান আইনগত শাস্তির বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়।

প্রচারণায় রেলওয়ে পুলিশের পাশাপাশি রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরাও অংশ নেন। তারা স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে এ ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ ও শাস্তিযোগ্য কাজ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। 

আখাউড়া রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল কুদ্দুস বলেন, সম্প্রতি পূর্বাঞ্চল রেলপথের ব্রাহ্মণবাড়িয়া এলাকায় চলন্ত ট্রেনে ঢিল নিক্ষেপের কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে। এতে কয়েকজন যাত্রী আহত হয়েছেন। শুধু আইন প্রয়োগের মাধ্যমে এ ধরনের ঘটনা পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব নয়। এজন্য জনসচেতনতা বৃদ্ধি জরুরি। সে লক্ষ্যেই আমরা শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের নিয়ে এই প্রচারণা চালাচ্ছি।

রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর পরিদর্শক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, লিফলেট বিতরণের পাশাপাশি মাইকিং করে স্থানীয়দের সতর্ক করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে কেউ চলন্ত ট্রেনে ঢিল নিক্ষেপের মতো অপরাধে জড়িত হলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সচেতনতামূলক কার্যক্রমের পাশাপাশি ট্রেনে ঢিল নিক্ষেপের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে নজরদারি ও টহল আরও জোরদার করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারাও এ উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন এবং এ ধরনের প্রচারণা নিয়মিত চালিয়ে যাওয়ার দাবি জানিয়েছেন।