র‍্যাব নির্যাতন মামলার আসামি ‘শফিক ডাকাত’ গ্রেপ্তার

আপডেট : ১৩ জুলাই ২০২৬, ০২:৪৩ পিএম

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে র‍্যাবের গোয়েন্দা সদস্যদের ওপর হামলা, আটকে রেখে নির্যাতন এবং সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী ও ডাকাত দলের নেতা হিসেবে পরিচিত শফিক ডাকাতকে রাজধানী থেকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)। তার বিরুদ্ধে হত্যা, ডাকাতি, ধর্ষণ, মাদক, চাঁদাবাজিসহ ১৫টির বেশি মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে র‍্যাব।

সোমবার (১৩ জুলাই) র‍্যাব-৯, সিপিসি-১, ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। শফিক নবীনগর উপজেলার রতনপুর ইউনিয়ন খাগাতুয়া গ্রামের শহীদ ব্যাপারীর ছেলে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রবিবার দিবাগত রাত ১২টা ২০ মিনিটে র‍্যাব-৯ ও র‍্যাব-১০-এর যৌথ একটি দল রাজধানীর কামরাঙ্গীরচর থানার ঝাউলাহাটি শহিদ কাওসার রোড এলাকার একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে শফিক ডাকাতকে গ্রেপ্তার করে। 

র‍্যাব জানায়, গত ১১ মে তথ্য সংগ্রহের উদ্দেশ্যে নবীনগর উপজেলার খাগাতুয়া এলাকায় গেলে শফিক ডাকাত ও তার সহযোগীরা র‍্যাবের চার গোয়েন্দা সদস্যের ওপর অতর্কিত সশস্ত্র হামলা চালায়। পরে তাদের প্রায় তিন ঘণ্টা আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়। খবর পেয়ে অতিরিক্ত র‍্যাব সদস্য ও স্থানীয়দের সহায়তায় আহত সদস্যদের উদ্ধার করে নবীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। তাদের মধ্যে তিনজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছিল।

ঘটনার পর একাধিক অভিযান চালিয়ে শফিক ডাকাতের কয়েকজন সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হলেও তিনি আত্মগোপনে চলে যান। প্রায় দুই মাস পর একটি বিকাশ অ্যাকাউন্টের সূত্র ধরে তার অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে রাজধানীতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানায় র‍্যাব।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শফিক ডাকাত জানিয়েছেন, ঘটনার দিন প্রতিপক্ষের একটি বাড়িতে হামলা চালানোর পর তিনি ও তার সহযোগীরা একটি বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। এ সময় র‍্যাব সদস্যরা এলাকায় আসছেন—এমন খবর পেয়ে তারা সংঘবদ্ধ হয়ে তাদের ওপর হামলা চালান। পরে র‍্যাব সদস্যদের আটকে রেখে নির্যাতন করা হয় এবং সেই ঘটনার ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।

র‍্যাবের ভাষ্য, শফিক ডাকাতের বিরুদ্ধে চুরি, ডাকাতি, চাঁদাবাজি, দখলবাজি, মাদক ব্যবসা, হত্যা, ধর্ষণ ও পর্নোগ্রাফিসহ ১৫টির বেশি মামলা রয়েছে। এছাড়া নবীনগর থানা পুলিশ ও র‍্যাবের ওপর হামলার ঘটনায় তার বিরুদ্ধে পৃথক তিনটি মামলাও দায়ের হয়েছে।

র‍্যাব-৯, সিপিসি-১, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কোম্পানি কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. নুরনবী বলেন, সন্ত্রাসীদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনতে র‍্যাবের গোয়েন্দা নজরদারি এবং অভিযান অব্যাহত থাকবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত