কুমিল্লায় ৩ দফা দাবিতে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের অবস্থান কর্মসূচি

বৈরী আবহাওয়া ও বন্যা পরিস্থিতির মধ্যে পরীক্ষা নেওয়ার প্রতিবাদ এবং পরীক্ষা স্থগিতের দাবিতে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের সামনে অবস্থান কর্মসূচি ও বিক্ষোভ করেছেন এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা। আজ মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বেলা ১১টায় নগরীর কান্দিরপাড় পূবালী চত্বর থেকে শুরু হয়ে এই বিক্ষোভ কর্মসূচি পরে শিক্ষা বোর্ডের প্রধান ফটকে গিয়ে অবস্থান কর্মসূচিতে রূপ নেয়।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা তাদের দাবির সপক্ষে বিভিন্ন স্লোগান দেন। তাদের উত্থাপিত ৩ দফা দাবিগুলো হলো- 

প্রথম দাবি: প্রাকৃতিক দুর্যোগ পুরোপুরি শেষ না হওয়া পর্যন্ত চলমান এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত রাখতে হবে।

দ্বিতীয় দাবি: গতকাল ১৩ জুলাই দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে যেসব শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারেননি, তাদের পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।

তৃতীয় দাবি: পরীক্ষা ব্যবস্থাপনায় ত্রুটি ও সমন্বয়হীনতার জন্য আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে শিক্ষামন্ত্রী এহসানুল হক মিলনকে জনসমক্ষে ক্ষমা চাইতে হবে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বেলা ১১টায় কান্দিরপাড় পূবালী চত্বরে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরীক্ষার্থীরা জড়ো হন। পরে সেখান থেকে তারা একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের দিকে রওনা দেন। মিছিলটি শিক্ষা বোর্ডের কাছাকাছি পৌঁছালে আদর্শ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাতেমাতুজ জোহরা এবং কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের শান্ত করার চেষ্টা করেন।
তবে শিক্ষার্থীরা কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের প্রধান ফটকের বাইরে অবস্থান নিয়ে তাদের দাবি আদায়ে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। 

অবস্থান কর্মসূচিতে সংহতি জানিয়ে অংশ নেওয়া এইচএসসি উত্তীর্ণ শিক্ষার্থী সাফিন আহমেদ বলেন, গতকাল শিক্ষার্থীরা কোমরপানি ভেঙে অত্যন্ত কষ্ট করে পরীক্ষা কেন্দ্রে এসেছেন। তাদের এই আর্তনাদ ও কষ্ট দেখার যেন কেউ নেই। শিক্ষার্থীদের এই যৌক্তিক দাবির সঙ্গে একমত পোষণ করেই আমি আজ এখানে অবস্থান নিয়েছি।

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী শাকিল আহমেদ বলেন, বৈরী আবহাওয়ার কারণে গতকাল অনেকেরই পরীক্ষা খারাপ হয়েছে। এই পরীক্ষা আমাদের জীবনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেলে ভর্তির সময় এইচএসসির জিপিএ গণনা করা হয়। আমরা চাই আপাতত দুর্যোগের কারণে পরীক্ষা স্থগিত রাখা হোক। একই সঙ্গে তদারকির ব্যর্থতার দায়ে শিক্ষামন্ত্রীকে জনসমক্ষে ক্ষমা চাইতে হবে।

উল্লেখ্য, গতকাল সোমবার কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্রে পরীক্ষার্থীদের কোমরসমান পানি মাড়িয়ে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে দেখা যায়। এ সংক্রান্ত ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে অভিভাবক ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা এই পরিস্থিতির জন্য সরাসরি শিক্ষামন্ত্রীর তদারকির ব্যর্থতাকে দায়ী করছেন।