উত্তরায় শিক্ষার্থীদের মহাসড়ক অবরোধ প্রত্যাহার

রাজধানীর উত্তরায় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগসহ বিভিন্ন দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির প্রতিনিধি দলের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার পর প্রায় পাঁচ ঘণ্টার অবরোধ কর্মসূচি প্রত্যাহার করেছেন। 

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বিকেল ৪টার দিকে ময়মনসিংহ মহাসড়ক বিএনএস সেন্টার এলাকায় অবরোধ তুলে নিলে ধীরে ধীরে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। 

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনায় ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল হকের উদ্যোগে সদস্য সচিব মোস্তফা জামানের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে ভূমিকা রাখে।

এর আগে মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ, এইচএসসি পরীক্ষা-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনাসহ বিভিন্ন দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা ময়মনসিংহ মহাসড়কের বিএনএস এলাকায় অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। প্রায় পাঁচ ঘণ্টা সড়ক অবরোধের ফলে উত্তরাসহ আশপাশের এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে সাধারণ যাত্রী, অফিসগামী মানুষ, রোগীবাহী যানবাহন ও পরিবহন চালকদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়া, শিক্ষা প্রশাসনের সিদ্ধান্ত এবং শিক্ষামন্ত্রীর ভূমিকার প্রতিবাদে তারা কর্মসূচি পালন করেন। তাদের দাবির মধ্যে— শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগ, পরীক্ষা-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা, ক্ষতিগ্রস্ত পরীক্ষার্থীদের জন্য কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং শিক্ষা প্রশাসনের জবাবদিহি নিশ্চিত করা।

এদিকে আন্দোলনের কারণে সৃষ্ট জনদুর্ভোগ নিরসনে বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল হক শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ নেন। তার নির্দেশে সদস্য সচিব মোস্তফা জামানের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে দীর্ঘ সময় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করে। আলোচনায় শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো মনোযোগ দিয়ে শোনা হয় এবং শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি শেষ করার আহ্বান জানানো হয়।

ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্য সচিব মোস্তফা জামান বলেন, ‘উত্তরায় শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন দাবিতে, বিশেষ করে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে সড়ক অবরোধ করে রেখেছিল। আমাদের আহ্বায়ক আমিনুল হক ভাইয়ের মাধ্যমে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনা পাই, যাতে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করে জনদুর্ভোগ নিরসনের চেষ্টা করা হয়। এরপর আমরা নেতাকর্মীদের নিয়ে ঘটনাস্থলে যাই এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দীর্ঘ সময় আলোচনা করি। আলোচনার একপর্যায়ে তারা আমাদের অনুরোধে অবরোধ প্রত্যাহারে সম্মত হয়। দেশের মানুষের দুর্ভোগ কমাতে আমরা সব সময় কাজ করছি। আজকের পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণভাবে সমাধান করতে পেরে আমরা সন্তুষ্ট।’

আন্দোলনরত এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও পরীক্ষা নেওয়ায় অনেক শিক্ষার্থী ভোগান্তির শিকার হয়েছে। আমরা মনে করি শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় নেয়নি। তাই শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগসহ আমাদের দাবিগুলো বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছি।’ না হলে আমরা আবারও আন্দোলনে নামার ঘোষণা দেব।

দীর্ঘ আলোচনার পর বিকেল ৪টার দিকে শিক্ষার্থীরা মহাসড়ক থেকে সরে গেলে ধীরে ধীরে যান চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করে। পরে ট্রাফিক পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা যান চলাচল স্বাভাবিক করতে কাজ করছেন।

এ বিষয়ে উত্তরা বিভাগের এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘গণতান্ত্রিক সমাজে প্রত্যেকেরই শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন ও দাবি জানানোর অধিকার রয়েছে। আমরা শুরু থেকেই শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করেছি। তাদের প্রতি অনুরোধ ছিল, যেন কোনো ধরনের সহিংসতা বা জনদুর্ভোগ সৃষ্টি না হয়। দীর্ঘ সময় সড়ক অবরোধ থাকায় সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছেন। কয়েক দফায় অবরোধ তুলে আবারও সড়কে অবস্থানের ঘটনা ঘটেছে। তবে ধারাবাহিক আলোচনার মাধ্যমে শেষ পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা অবরোধ প্রত্যাহার করে এবং যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।’

অবরোধ প্রত্যাহারের পর বিকেলের দিকে ময়মনসিংহ মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়ে আসে। দীর্ঘ যানজটে আটকে পড়া যানবাহন ধীরে ধীরে গন্তব্যের উদ্দেশে চলাচল শুরু করে এবং এলাকায় স্বস্তি ফিরে আসে।