১৭ জুলাই প্রেক্ষাগৃহে আসছে মাস্তুল

নদী, জাহাজ ও ভাসমান মানুষের যাপনচিত্র

আন্তর্জাতিক অঙ্গন ঘুরে এবার দেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাচ্ছে নির্মাতা মোহাম্মদ নূরুজ্জামানের আলোচিত চলচ্চিত্র ‘মাস্তুল’। আগামী ১৭ জুলাই (শুক্রবার) থেকে দর্শকরা বড় পর্দায় দেখতে পাবেন সিনেমাটি। ধ্রুব এষের ডিজাইন করা অফিশিয়াল পোস্টার ও দুই মিনিটের ট্রেলার ইতিমধ্যে দর্শকের নজর কেড়েছে। মুক্তির ঠিক তিন দিন আগে, গতকাল রাশিয়ান কালচারাল সেন্টারে চলচ্চিত্রটির উদ্বোধনী প্রদর্শনী ও সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

নির্মাতা মোহাম্মদ নূরুজ্জামানের নিজ শহর এবং ব্যস্ত নদীবন্দর নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা পাড়ের ৫ নম্বর ঘাট এলাকায় বাস্তব লোকেশনে নির্মিত হয়েছে ‘মাস্তুল’। চলচ্চিত্রের গল্প আবর্তিত হয়েছে একটি জ্বালানিবাহী তেলের ট্যাংকারের প্রবীণ রাঁধুনি এবং বন্দর এলাকার এক পথশিশুকে কেন্দ্র করে। তাদের সম্পর্কের জটিল রসায়নে উঠে এসেছে ভাসমান মানুষের বিচ্ছিন্নতা, স্নেহ, ক্ষমতার দ্বন্দ্ব ও অস্তিত্বের সংগ্রাম। এতে পেশাদার অভিনেতাদের পাশাপাশি ট্যাংকারে কর্মরত প্রকৃত খালাসিরাও অভিনয় করেছেন।

সিনেমাটি ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিক মহলে প্রশংসা কুড়ায়। ৪৭তম মস্কো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের মূল প্রতিযোগিতা বিভাগে ‘স্পেশাল মেনশন’ ছাড়াও রাশিয়ার ১৮তম চেবোক্সারি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে ‘বেস্ট আর্টিস্টিক কন্ট্রিবিউশন’ পুরস্কার অর্জন করে এটি। এছাড়া স্পেনের ২৬তম ইমাজিন ইন্ডিয়া আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে ‘সেরা মানবিক চলচ্চিত্র’ বিভাগে মনোনয়ন পায় চলচ্চিত্রটি।

চলচ্চিত্রটিতে একটি প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন ছয় বার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেতা ফজলুর রহমান বাবু। সিনেমাটি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এটি মূলত নদীপথে তেল সরবরাহকারী জাহাজি মানুষের যাপন ও মানবিকতার গল্প। চরিত্রটি রূপায়ণ করতে গিয়ে আমি নিজেও সেই যাপিত জীবনের গভীরে প্রবেশ করেছি। মাস্তুল-এর ভিন্ন ঘরানার গল্প দর্শকদের ভাবাবে এবং তাদের মন ছুঁয়ে যাবে।’

মোহাম্মদ নূরুজ্জামান নিজেই এই চলচ্চিত্রের গল্প, চিত্রনাট্য, সম্পাদনা, সাউন্ড ডিজাইন ও প্রযোজনা করেছেন। ফজলুর রহমান বাবু ছাড়াও এতে অভিনয় করেছেন দীপক সুমন, আমিনুর রহমান মুকুল, আরিফ হাসান, সিকদার মুকিত, শাহজাহান শোভন ও সিফাত বন্যা। সিনেমাটোগ্রাফিতে মোহাম্মদ আরিফুজ্জামান ও সংগীতে ছিলেন চৈতন্য রাজবংশী। চলচ্চিত্রটি প্রযোজনা করেছে সিনেমাকার এবং পরিবেশনায় রয়েছে টঙঘর টকিজ।