ইরানের বন্দরে আবারও মার্কিন নৌ অবরোধ

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সব সমুদ্রবন্দরের ওপর আবারও নৌ অবরোধ (নেভাল ব্লকেড) আরোপ করেছেন। একই সঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, তেহরান দ্রুত আলোচনার টেবিলে না ফিরলে আগামী সপ্তাহ থেকে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র, সেতু এবং শেষ পর্যন্ত জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে হামলা চালানো হবে।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) ট্রাম্প এ ঘোষণা দেওয়ার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী জানায়, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলায় ব্যবহৃত ইরানের সক্ষমতা আরও দুর্বল করতে নতুন করে এক দফা হামলা শুরু হয়েছে।

অন্যদিকে তেহরানের দাবি, গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আবারও সংঘাত শুরু হওয়ার পর তারা পুনরায় হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়েছে। এতে জুন মাসে কয়েক মাসের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর হওয়া নাজুক যুদ্ধবিরতি আরও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। ওই সংঘাতে হাজারো মানুষ নিহত হয়েছিল।

ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, 'জ্বালানি স্থাপনাগুলোকে শেষের জন্য রেখে দিচ্ছি, তবে শেষ পর্যন্ত সেগুলোতেও হামলা হবে। আগামী সপ্তাহে বিদ্যুৎকেন্দ্র, আগামী সপ্তাহে সেতুগুলো লক্ষ্যবস্তু হবে যদি তারা আলোচনার টেবিলে না আসে।'

তবে ১৯৪৯ সালের জেনেভা কনভেনশন অনুযায়ী, বেসামরিক জনগণের জীবনযাত্রার জন্য অপরিহার্য অবকাঠামোতে হামলা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের পরিপন্থী।

ট্রাম্প আরও জানান, মার্কিন আলোচকরা ইতোমধ্যে ইরানি প্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগ করে বার্তা দিয়েছেন যে, 'চুক্তিতে পৌঁছাতেই হবে।' 

এদিকে বুধবার ভোরে ইরানের সেনাবাহিনী দাবি করেছে, তারা জর্ডানের আজরাক ঘাঁটিতে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনীর ওপর ড্রোন হামলা চালিয়েছে। তবে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি পেন্টাগন।

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, বাহরাইন ও কুয়েতে অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম সংরক্ষণাগার লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।

অন্যদিকে কুয়েতের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা ইরানি ড্রোন প্রতিহত করতে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করেছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, একটি স্থানে আগুন লাগলেও তা নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে।

সাম্প্রতিক এই উত্তেজনা গত মাসে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে সংশয় তৈরি করেছে। ওই সমঝোতা যুদ্ধের স্থায়ী অবসান ঘটাবে বলে আশা করা হয়েছিল। দীর্ঘদিনের এই সংঘাত ইরানের প্রতিবেশী দেশগুলোতেও অস্থিরতা ছড়িয়ে দিয়েছে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে বিঘ্নিত করেছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে দেশটির বন্দরনগরী বন্দর আব্বাসের গভর্নরের কার্যালয় জানিয়েছে, মঙ্গলবার রাতে শহরের আশপাশের একটি এলাকায় মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। একই সময়ে রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ জানায়, দক্ষিণ ইরানের সিরিক শহরের কাছেও মার্কিন হামলা হয়েছে।

ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে বলেন, 'যুক্তরাষ্ট্র যদি মনে করে সামরিক হামলা ও অর্থনৈতিক অবরোধ জোরদার করে আমাদের আবার আলোচনায় ফিরিয়ে আনতে পারবে, তবে তারা ভুল করছে।'