ট্রাম্পের সঙ্গে ইনফান্তিনোর ঘনিষ্টতার অভিযোগ তদন্ত করবে আইওসি

মাঠের ফুটবলকে ছাপিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় কেলেঙ্কারি এখন ফিফা ও হোয়াইট হাউসের অন্দরমহলে। মার্কিন স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগুনের লাল কার্ডের নিষেধাজ্ঞা বাতিল করার পেছনে সরাসরি রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার জের ধরে এবার ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির (আইওসি) কাছে আনুষ্ঠানিক নীতি লঙ্ঘনের অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

হিউম্যান রাইটস ও স্পোর্টস অ্যাডভোকেসি গ্রুপ 'ফেয়ারস্কয়ার' এই বিস্ফোরক অভিযোগটি দায়ের করেছে। ২০২০ সাল থেকে আইওসির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করা ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে অলিম্পিক চার্টারের 'রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা'র নীতি বারবার ভাঙার অভিযোগ আনা হয়েছে, যার দায়ে তার আইওসি সদস্যপদ বাতিলও হতে পারে।

অলিম্পিক কমিটির নিয়ম অনুযায়ী কোনো সদস্য রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষতা হারাতে পারেন না। ফেয়ারস্কয়ার আইওসির কাছে ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে যে ৫টি নির্দিষ্ট অভিযোগ জমা দিয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে:

১. বালোগুনকে বিশেষ সুবিধা: ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক তদবিরের মুখে ফিফার নিজস্ব নিয়ম (ডিসিপ্লিনারি কোড) ভেঙে বালোগুনকে খেলার সুযোগ করে দেওয়া।

২. তথ্য পাচারের অভিযোগ: বিশ্বকাপের একটি ফ্যান প্ল্যাটফর্ম প্রমোট করা, যার সাথে ট্রাম্পের নির্বাচনী ডেটা সংগ্রহের যোগসূত্র রয়েছে।

৩. ইনস্টাগ্রাম পোস্ট বিতর্ক: ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ট্রাম্পের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে রাজনৈতিক সমর্থনমূলক পোস্ট দেওয়া।

৪. নোবেল শান্তি পুরস্কারের লবিং: ২০২৫ সালের অক্টোবরে ট্রাম্পকে নোবেল শান্তি পুরস্কার দেওয়ার জন্য লবিং করা।

৫. ফিফা পিস প্রাইজ প্রদান: গত ডিসেম্বরে ওয়াশিংটনে বিশ্বকাপের ড্র অনুষ্ঠানে ট্রাম্পের হাতে বিতর্কিত 'ফিফা পিস প্রাইজ' তুলে দেওয়া।

ইউরোপীয় পার্লামেন্টের ৭২ জন সদস্য এবং নরওয়েজিয়ান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন ইতিমধ্যেই ফিফার এই নতি স্বীকারের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের আইনপ্রণেতা ব্যারি অ্যান্ড্রুজ ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেছেন, "বিশ্বকাপের মাঝপথে লাল কার্ডের নিয়ম বদলে ফেলা একটি জঘন্য ঘটনা এবং বিচারের নামে প্রহসন। ইনফান্তিনো ও ফিফা আবারও ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে আত্মসমর্পণ করল।"