ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে চায় স্পেন

ফ্রান্সের বিপক্ষে সেমিফাইনালে দাপুটে জয়ের পর স্পেনের প্রধান কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে জানিয়েছেন, এই দলটির মধ্যে তিনি ২০১০ সালের প্রথম বিশ্বকাপজয়ী স্প্যানিশ দলের সেই অদম্য স্পিরিট বা চেতনা খুঁজে পাচ্ছেন। নিউ জার্সির ফাইনাল নিশ্চিত করার পর দে লা ফুয়েন্তে তার পরবর্তী লক্ষ্য স্থির করে ফেলেছেন। আলবিসেলেস্তেদের কোচ লিওনেল স্কালোনির সাথে গভীর বন্ধুত্বের খাতিরে ফাইনালে তিনি আর্জেন্টিনাকেই প্রতিপক্ষ হিসেবে পেতে চান।

আজকের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। সেই ম্যাচের আগেই নিজের পছন্দের কথা জানিয়ে দে লা ফুয়েন্তে সংবাদ সম্মেলনে বলেন:

"ব্যক্তিগতভাবে আমি ফাইনালে আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হতে চাইব। আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনির সাথে আমার সম্পর্কটা অত্যন্ত চমৎকার এবং আমরা খুব ভালো বন্ধু। তবে অন্য সেমিফাইনালের প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ডও দারুণ দল। সত্যি বলতে, আর্জেন্টিনা বনাম ইংল্যান্ডের ম্যাচটি নিজেই একটি বিশ্বকাপ ফাইনাল হওয়ার যোগ্য।"

ফাইনাল ম্যাচ নিয়ে নিজের ফুটবল দর্শন তুলে ধরে স্প্যানিশ বস আরও যোগ করেন, "আমি বিশ্বাস করি না যে ফাইনাল ম্যাচ কেবল জেতার জন্যই খেলতে হয়। ফাইনাল ম্যাচ হচ্ছে উপভোগ করার জন্য। আমাদের সামনে এখন যে সুযোগ, তা হতে পারে স্প্যানিশ ফুটবলের মুকুটে আরেকটি সোনালী পালক।"

স্পেনে ফিরেছে ২০১০-এর বিশ্বজয়ী চেতনা

বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে নামার আগে ফ্রান্স দল টুর্নামেন্টে ১৬টি গোল করে সবচেয়ে ভয়ঙ্কর আক্রমণভাগ হিসেবে পরিচিত ছিল। কিন্তু মাঠের লড়াইয়ে ফরাসিদের স্রেফ বোতলবন্দী করে রাখে স্পেনের ডিফেন্স। ম্যাচের ৮০ মিনিট পর্যন্ত ফ্রান্স গোলমুখে কোনো শটই নিতে পারেনি।

নিজেদের এই শক্তিকে বিশ্বের সেরা দাবি করে দে লা ফুয়েন্তে বলেন, "ম্যাচের আগে আমার বার্তা ছিল—আমরা বিশ্বের অন্যতম সেরা একটি দলের বিরুদ্ধে খেলছি ঠিকই, কিন্তু তাদের এটাও মনে রাখতে হবে যে তারা আজ মুখোমুখি হয়েছে বিশ্বের 'সেরা' দলটির! এই খেলোয়াড়রা মাঠে অসাধারণ প্রতিশ্রুতি, একতা ও প্রতিভা দেখিয়েছে।"

তিনি আরও যোগ করেন, "আমাদের ড্রেসিংরুম এখন আনন্দে ভাসছে, পুরো দেশ আমাদের পেছনে দাঁড়িয়েছে। আমরা ২০১০ সালের সেই বিশ্বজয়ী দলের চেতনাকে আবার ফিরিয়ে এনেছি। দলের চরিত্র বোঝা যায় তখনই, যখন ম্যাচ শেষে যারা খেলার সুযোগ পায়নি তারাও মাঠে এসে অতিরিক্ত ঘাম ঝরায়।"

অহংকারহীন এক একতা এবং অপরাজিত থাকার বিশ্বরেকর্ড

ইউরো ২০২৪ চ্যাম্পিয়ন স্পেন ফুটবল দলটি গড়ে উঠেছে সম্পূর্ণ অহংকারহীন এবং পারস্পরিক ত্যাগের মানসিকতা নিয়ে। দলে কোনো অতি-তারকা বা 'ইগো' নেই উল্লেখ করে স্প্যানিশ কোচ বলেন, সঠিক সফরসঙ্গী বেছে নেওয়াটাই দলগত সাফল্যের আসল চাবিকাঠি।

ফ্রান্সকে হারানোর মধ্য দিয়ে স্পেন আন্তর্জাতিক ফুটবলে টানা ৩৭ ম্যাচ অপরাজিত থাকার ইতাহসের বিশ্বরেকর্ড স্পর্শ করল। তবে দে লা ফুয়েন্তে মনে করেন, এই দলের উন্নতির গ্রাফ এখনও শেষ হয়নি, "এই দলটা আমাকে প্রতি মুহূর্তে অবাক করে। আমাদের উন্নতির কোনো শেষ নেই। এটি ভালোবাসার এক দীর্ঘ প্রক্রিয়া ছিল এবং সঠিক সময়ে দল সেরা ফর্মে পৌঁছেছে।"