পুরানো ইতিহাস ভুলে মেসিদের বিপক্ষে জয়ের ছক ইংল্যান্ডের

ফুটবল বিশ্বের অন্যতম চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দেশ ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনা। ১৯৮৬ সালের 'হ্যান্ড অফ গড' বিতর্ক বা ১৯৯৮-এর সেই নাটকীয় পেনাল্টি শ্যুটআউট; এই দুই দেশের দীর্ঘ তিক্ত দ্বৈরথের স্মৃতি আজও ফুটবল প্রেমীদের মনে অমলিন।

তবে আজকের (বুধবার) সেমিফাইনালকে ঘিরে ইংলিশ শিবিরে নেই কোনো ঐতিহাসিক প্রতিশোধের নেশা বা পুরোনো তিক্ততার চাপ। কোচ টমাস টুখেল সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, তারা কোনো ইতিহাস লিখতে বা কোনো ইতিহাস ভাঙতে নামছেন না; তাদের লক্ষ্য কেবল বর্তমান। তাদের চোখ এখন ফাইনালের মঞ্চে।

ইংল্যান্ড গত ৬০ বছরে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার অপেক্ষায়। এই দীর্ঘ অপেক্ষার চাপ দলের ওপর আছে কি না, এমন প্রশ্নে টুখেল বেশ নিরুত্তাপ। ম্যাচ পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘আমি এটিকে কোনো বোঝা মনে করি না। তবে ম্যাচের আগের দিন যে স্নায়ুচাপ বা উত্তেজনা থাকে, তা তো স্বাভাবিক। দলের খেলোয়াড়রা এই লড়াইয়ের জন্য মুখিয়ে আছে এবং তারা জেতার জন্য মরিয়া।’

আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের ম্যাচ মানেই তো সেই আইকনিক কিছু মুহূর্তের স্মৃতি। তবে টুখেল বারবার জোর দিচ্ছেন বর্তমানের ওপর। তার মতে, ম্যাচের মঞ্চটি এমনিতেই যথেষ্ট বড়, তাই বাড়তি অনুপ্রেরণা হিসেবে পুরনো কোনো ঘটনার আশ্রয় নেওয়ার প্রয়োজন নেই। ‘ম্যাচ যত বড় হয়, উত্তেজনা তত বাড়ে। আমাদের কাজ হলো খেলোয়াড়দের বার্তাটি যতটা সম্ভব সহজ রাখা, যেন তারা মাঠে পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলতে পারে।’

লিওনেল মেসিকে ঘিরে আর্জেন্টাইনদের দাপট নিয়ে যে কেউ থাকবে সচেতন। সেই তালিকায় আলাদা নন টুখেলও। মেসির টেকনিক্যাল দক্ষতা ও তার চারপাশের সতীর্থদের মুভমেন্ট নিয়ে প্রশংসা করে ইংল্যান্ড কোচ বলেন, ‘মেসি যখন বল পায়, তখন খেলাটা সম্পূর্ণ অন্য উচ্চতায় চলে যায়। তাকে নিয়ে আমাদের অনেক সতর্ক থাকতে হবে, তবে আমরা এখানে এসেছি নিজেদের খেলার ধরন এবং শক্তি দিয়েই প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলতে।’

ইংল্যান্ডের ডাগআউটে একজন জার্মান কোচ হিসেবে বিশ্বকাপ জয়ের হাতছানি কি তাকে বাড়তি চাপে ফেলছে? এমন প্রশ্নের জবাবে টুখেল হাসিমুখে এড়িয়ে গিয়ে বলেন, ‘আমার ব্যক্তিগত কোনো এমন লক্ষ্য নেই। আমি কেবল নিজের কাজটা উপভোগ করছি এবং এই সুযোগ পেয়ে কৃতজ্ঞ।’