শাহজাদপুরে ২১৬টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেই শিক্ষক

শিক্ষক সংকটে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২১৬টি শিক্ষক পদ দীর্ঘ দিন ধরে শুন্য রয়েছে। এর মধ্যে প্রধান শিক্ষকের পদ ১৫১টি। বাকি ৬৫টি সহকারি শিক্ষক পদ শুন্য রয়েছে। ১৫১টি স্কুলে সহকারি শিক্ষকরা প্রধান শিক্ষকের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে কোন কোন স্কুলে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকদের গুরুত্ব না দেওয়ায় লেখাপড়া  বিঘ্নিত হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে জানা গেছে, এ উপজেলায় ২২৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এই ২২৪ বিদ্যালয়ে মোট ছাত্র-ছাত্রী রয়েছে ৩৩ হাজার ৭৫২ জন। দীর্ঘ দিন ধরে ১৫১টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক না থাকায় ও ৬৫টি সহকারি শিক্ষক পদে কোন শিক্ষক না নেওয়া স্কুলে পাঠদানে প্রচন্ড বিঘ্ন ঘটছে। এদিকে সহকারী শিক্ষকরা ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করায় অনেক স্কুলে ভারপ্রাপ্ত প্রাধান শিক্ষককে গুরুত্ব না দেওয়ায় বিদ্যালয়ে পাঠদান সহ অনেক কাজেই বিঘ্ন ঘটছে। ফলে এ উপজেলায় প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম ভেস্তে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। 

সব চেয়ে বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে উপজেলার মফস্বল বিদ্যালয় গুলো। খবর নিয়ে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষক ও সহকারি শিক্ষক পদ শুন্য থাকায় ওই সকল বিদ্যালয়ে পাঠদান কার্যক্রম বিঘ্ন ঘটছে। ফলে অধিকাংশ স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীরা বাংলা ও ইংরেজি পাঠ্য বইয়ে রিডিং ভালভাবে পড়তে পারে না। এ অবস্থায় অভিভাবকদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে । 

উপজেলার তারটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েরে এক অভিভাবক নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেন , যমুনা নদী তীরবর্তী এ স্কুলটি অবহেলিত। যারা স্কুলের ম্যাজেজিং কমিটিতে আসেন তারা নিজেরদের প্রভাব বিস্তার করে ধান্ধাবাজি করে থাকেন । স্কুলটিতে শিক্ষক পদ শুন্য থাকলেও সেদিকে কারো মনোযোগি নই। 

এ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রেহানা পারভিন জানান , বর্তমানে তার স্কুলে ম্যানেজিং কমিটি না থাকায় তাদের ক্লাষ্টাটারে এটিও সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি জানান, তার স্কুলে ১৫২ জন ছাত্র-ছাত্রী লেখাপড়া করছে। উপস্থিতি ৮০ ভাগ থাকলেও এ বিদ্যালয়ে শিক্ষক রয়েছে মাত্র তিন জন । তিনি জানান, তাকে দাপ্তরিক কাজে প্রায়ই উপজেলা সদরে যেতে হয়। তাই এ কারনে পাঠদানে অসুবিধা লেগেই আছে। তিনি জানান, স্কুলটিতে কমপক্ষে আরো তিন শিক্ষক জরুরী হয়ে পরেছে।  

এদিকে স্থানীয় সিনিয়র  শিক্ষক উজ্জল হোসেনের সাথে কথা বলে জানা গেছে দীর্ঘ ২৬-২৭ বছর শিক্ষকদের পদায়ন বন্ধ থাকায় শিক্ষকদের মধ্যে হতাশার পাশাপাশি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের শুন্যপদ পুরণ করা সম্ভব হচ্ছে না।

খবর নিয়ে জানা গেছে সেসব স্কুলে যোগাযোগ ব্যবস্থা ভাল নেই সে সকল স্কুলে বেশী শিক্ষক সংকট। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে জানা গেছে, প্রতিটি বিদ্যালয়ে একজন প্রধান শিক্ষক সহ কমপক্ষে ৬জন শিক্ষক থাকতে হবে। শিক্ষক পদ শূন্য থাকায় অনেক স্কুলে ২ থেকে ৩জন শিক্ষক দিয়ে স্কুলে পাঠদান চলছে। 

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. মুরাদ হোসেন জানান , তার উপজেলাতে শুধু শিক্ষক সংকটই নয়, তার অফিসে জনবল সংকটের কারনে কোন কিছুই ভাল ভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না। তিনি জানান, তার অফিসে সহকারি প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের পদ ৯টি থাকলেও ৪ জন সহকারি প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার দিয়ে  ২২৪টি প্রাথমিক বিদ্যালয়েয়ের ৩৩ হাজার উপরে শিক্ষার্থীর লেখাপড়া সহ সব ধরনের খোঁজখবর নিতে হচ্ছে । 

তিনি আরও জানান, তার অফিসে অফিস সহকারি পদে চারজন থাকার কথা থাকলেও সব গুলো পদশুন্য। একজন ইউ ডি এ পুরো অফিসের দাপ্তরিক কাজ করছেন। তিনি জানান, দীর্ঘদিন তার অফিসের পিওনের পদও শুন্য রয়েছে।