চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের কন্টেইনার স্ক্যানার ক্রয়ে বিগত সরকারের আমলের দুর্নীতি ও অনিয়ম নিয়ে জাতীয় সংসদে কামাল আহমেদ এমপির সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী দৃঢ়তার সঙ্গে জানিয়েছেন, রাষ্ট্রীয় সম্পদ নিয়ে কোনো ধরনের দুর্নীতি হয়ে থাকলে, সেটি যখনই হোক না কেন, জড়িতদের অবশ্যই দেশের আইন অনুযায়ী বিচারের আওতায় আনা হবে।
জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে ওই সংসদ সদস্য তার প্রশ্নে জানান, বিগত ২০১৮ সালে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবং কাস্টম হাউস চট্টগ্রাম কর্তৃক চারটি কন্টেইনার স্ক্যানার মেশিন ক্রয়, অপারেশন ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য একটি দরপত্র আহ্বান করা হয়। এই দরপত্রে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে এবং এ সংক্রান্ত মামলা এখনো চলমান রয়েছে। বিগত সরকারের আইনমন্ত্রীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিরা এই দুর্নীতির সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিলেন উল্লেখ করে ওই সদস্য বলেন, ৩০০ থেকে ৪০০ কোটি টাকার এই হরিলুটের সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ থাকার পরও দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে কি না, তা তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে জানতে চান।
সংসদ সদস্যের এই প্রশ্নের জবাবে ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরটি দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি রাষ্ট্রীয় সম্পদ, যা মূলত জনগণের সম্পদ। এখানে কাজ করতে গিয়ে যদি কোনো দুর্নীতি হয়ে থাকে, সেটি যে আমলেই হয়ে থাকুক না কেন—অবশ্যই দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী যারা এর জন্য দায়ী, তাদের বিচার করা হবে।
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে আরও জোর দিয়ে বলেন, যেকোনো জায়গায় রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় রোধ করা বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। একই সঙ্গে পর্যায়ক্রমিকভাবে দেশে একটি সম্পূর্ণ দুর্নীতিমুক্ত কর্মপরিবেশ গড়ে তুলতে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।