স্নাতক স্তরের মেডিকেল ও ডেন্টাল কোর্সের ভর্তি পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন পরিবেশকর্মী ও শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুক। বুধবার (১৫ জুলাই) তার অনশনের ১৮তম দিন পূর্ণ হয়েছে। এ সময় তাকে সার্বক্ষণিক চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
ওয়াংচুকের সংগঠন ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) জানিয়েছে, তিনি এখনো ‘অত্যন্ত দুর্বল’ অবস্থায় রয়েছেন এবং ২৪ ঘণ্টা চিকিৎসা নজরদারিতে আছেন।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দুর খবরে বলা হয়, নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে সিজেপির বিক্ষোভের অংশ হিসেবে অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন ওয়াংচুক। এদিকে সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ ডিপকে অভিযোগ করেছেন, আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনায় না বসে সরকার ‘নিষ্ঠুরতার’ পরিচয় দিচ্ছে।
সিজেপির প্রকাশিত মেডিকেল বুলেটিন অনুযায়ী, ওয়াংচুকের ওজন কমে ৫৭ দশমিক ১৫ কেজিতে নেমেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় তার ওজন কমেছে ৪০০ গ্রাম। অনশন শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত তার মোট ওজন কমেছে ৮ দশমিক ৯ কেজি।
তার রক্তচাপ ১০৫/৭৬, রক্তে শর্করার মাত্রা ৮০ মিলিগ্রাম/ডেসিলিটার এবং অক্সিজেনের মাত্রা ৯৭ শতাংশ রয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, তার শরীরে পানির ভারসাম্য মোটামুটি ঠিক আছে।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ওয়াংচুক এখনো সচেতন ও মানসিকভাবে সতর্ক রয়েছেন। তবে তার অবস্থা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন।
সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ ডিপকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, ‘সোনম ওয়াংচুকের অনশনের ১৮তম দিন। আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের জন্য ন্যায়বিচার চেয়ে নিজের জীবন ঝুঁকিতে ফেলা এই মানুষটি সরকারের কাছ থেকে শুধু নীরবতাই পেয়েছেন। সরকার শুধু জবাবদিহিহীন নয়, একই সঙ্গে নিষ্ঠুরও।’
ডিপকে বলেন, যে প্রশ্নগুলোর উত্তর প্রয়োজন, সেগুলো হলো—প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কেন আলোচনায় বসছেন না এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে কেন এখনো জবাবদিহির আওতায় আনা হয়নি।
তিনি বলেন, ‘বিরোধী দলের নেতা কেন সিজেপিকে সমর্থন করেননি, কিংবা সিজেপির প্রতিটি সদস্য কেন সোনম স্যারের সঙ্গে অনশনে বসেননি—এসব প্রশ্ন না করে আসল প্রশ্নগুলো করুন।’
‘প্রধানমন্ত্রী কেন আলোচনায় বসতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছেন? শিক্ষামন্ত্রীকে কেন এখনো দায়ী করা হচ্ছে না? এসব প্রশ্নের উত্তর প্রয়োজন। এমন বিভ্রান্তিকর বিষয় নয়, যা ক্ষমতাসীনদের জবাবদিহি থেকে রক্ষা করতে সহায়তা করে।’
এদিকে ওয়াংচুকের প্রতি সংহতি জানিয়ে ১৬ জুলাই একদিনের গণঅনশনের ঘোষণা দিয়েছে সিজেপি।
অনলাইনে গড়ে ওঠা এই সংগঠনটি ২০ জুলাইয়ের ‘চলো সংসদ’ পদযাত্রায় অংশ নিতে মানুষের প্রতি আবারও আহ্বান জানিয়েছে। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে স্বচ্ছ পরীক্ষা ব্যবস্থা, বারবার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় জবাবদিহি এবং ধর্মেন্দ্র প্রধানের অপসারণ।
অন্যদিকে পৃথক কর্মসূচিতে অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (আইসা) নেত্রী নেহা, মনীশ ও আমিন শারীরিক অবস্থার অবনতি সত্ত্বেও অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন।
বামপন্থী সংগঠনটি জানিয়েছে, শিক্ষাবিদ নিবেদিতা মেনন, আদিত্য নিগম, অনুরাধা চেনয় ও রাধা কুমারের সমন্বয়ে একটি প্রতিনিধি দল অনশনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দেখা করেছেন।
সমাজবাদী পার্টির সংসদ সদস্য প্রিয়া সরোজ, বিধায়ক অতুল প্রধান এবং এমএলসি মান সিং যাদবও আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন এবং ২০ জুলাইয়ের সংসদ পদযাত্রায় মানুষকে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
এর আগে মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) তৃণমূল কংগ্রেস প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, সমাজবাদী পার্টির সভাপতি অখিলেশ যাদব, শিবসেনা (ইউবিটি) প্রধান উদ্ধব ঠাকরে এবং আম আদমি পার্টির জাতীয় আহ্বায়ক অরবিন্দ কেজরিওয়াল ওয়াংচুককে অনশন প্রত্যাহারের আহ্বান জানান।
অভিনেত্রী জিনাত আমানও সরকারের প্রতি ওয়াংচুকের সঙ্গে আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়েছেন।
মঙ্গলবার যন্তর মন্তরে ওয়াংচুক ও সিজেপির আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানাতে আসা ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন গুজরাটের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী শঙ্করসিংহ ভাঘেলা। অভিনেত্রী স্বরা ভাস্করও আন্দোলনে যোগ দেন।
সিজেপি জানিয়েছে, কংগ্রেসের সংসদ সদস্য শশী থারুর আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানানোয় তাকে ধন্যবাদ জানানো হয়েছে। ডিপকে সমর্থকদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের প্রোফাইল ছবি পরিবর্তন করে ওয়াংচুকের প্রতি সংহতি জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
সিজেপির দাবি, সংসদ পদযাত্রার সমর্থনে তাদের মিসড কল প্রচারণায় এখন পর্যন্ত ১ লাখ ৩০ হাজারের বেশি মানুষ নিবন্ধন করেছেন।