ঈশ্বরগঞ্জে জমে ওঠেনি কৃষি প্রযুক্তি মেলা, খালি পড়ে আছে স্টল

আধুনিক ও টেকসই কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার সম্পর্কে কৃষকদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি কৃষকের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী ‘কৃষি প্রযুক্তি মেলা-২০২৬’।

‘ক্লাইমেট স্মার্ট এগ্রিকালচার অ্যান্ড ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট (ডিএই পার্ট)’ প্রকল্পের আওতায় ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চত্বরে গত মঙ্গলবার এই মেলার উদ্বোধন করা হয়। তবে উদ্বোধনের প্রথম ও দ্বিতীয় দিনে আশানুরূপ দর্শনার্থীর অভাবে মেলাটি ছিল অনেকটাই প্রাণহীন।

তিন দিনব্যাপী এই কৃষি প্রযুক্তি মেলায় ১৩টি স্টল নিয়ে আয়োজন করা হলেও বেশির ভাগ স্টলেই ছিল না দর্শনার্থীদের ভিড়। 

বুধবার (১৫ জুলাই) বিকেল পর্যন্ত অনেক স্টলে তেমন কোনো বেচাকেনাও হতে দেখা যায়নি। অধিকাংশ স্টলই ফাঁকা পড়ে ছিল এবং সেখানে উপজেলা কৃষি অফিসের কর্মকর্তাদের তেমন একটা উপস্থিতি চোখে পড়েনি। মেলা প্রাঙ্গণে আলী আকসার খান নামে কেবল একজন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে কিছুক্ষণের জন্য দেখা গেলেও পরবর্তীতে তিনিও চলে যান।

মেলা ঘুরে দেখা যায়, সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের স্টলে উন্নত জাতের ধান ও সবজির বীজ, আধুনিক কৃষিযন্ত্র, ফলদ ও বনজ গাছের চারা, জৈব সার এবং কৃষির বিভিন্ন আধুনিক প্রযুক্তি প্রদর্শন করা হচ্ছে। কিন্তু দর্শনার্থীর উপস্থিতি না থাকায় স্টল সংশ্লিষ্টদের বেশির ভাগ সময় অলস বসে থাকতে দেখা গেছে।

মেলার দ্বিতীয় দিন বিকেলে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সামনে কথা হয় পৌর শহরের রিয়াদ মিয়া ও মাইজবাগ ইউনিয়নের বাসিন্দা জাহিদ হাসানের সাথে। তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘উপজেলায় কৃষি প্রযুক্তি মেলা হচ্ছে, তা আমরা আপনাদের মুখ থেকেই প্রথম শুনলাম। অথচ বিগত সময়ে কৃষি প্রযুক্তি মেলা হতো উৎসবমুখর; দর্শনার্থী ও ক্রেতা-বিক্রেতাদের ভিড় লেগেই থাকত। মেলার অনেক আগে থেকেই চারিদিকে ব্যাপক প্রচারণা চলত।’

মেলায় আসা আরও কয়েকজন দর্শনার্থী বলেন, কৃষকদের জন্য এমন আয়োজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও এখানে প্রচারণার অভাব স্পষ্ট। অনেক কৃষকই মেলার খবর জানেন না। পর্যাপ্ত প্রচারণা না হওয়ায় মানুষজন মেলা সম্পর্কে অবগত নন, যার ফলে মেলা প্রাঙ্গণ দর্শনার্থীশূন্য এবং বেচাকেনাও নেই।

পৌর শহরের বনরাজ হর্টিকালচার নার্সারির মালিক মহররম আলী বলেন, ‘মেলায় লোকজনের উপস্থিতি খুবই কম, বেচাকেনাও একদম নেই। এমন পরিস্থিতিতে স্টল দিয়ে লাভের চেয়ে উল্টো খরচই বেশি হচ্ছে। মেলার চেয়ে আমাদের নিজস্ব নার্সারিতেই বেশি বেচাকেনা হয়।’

একই সুর মেলায় অংশ নেওয়া আঠারবাড়ী ইউনিয়নের হোসাইন নার্সারির প্রতিনিধি ফারুক মিয়ার কণ্ঠেও। তিনি বলেন, ‘এবার মেলায় তেমন লোকজন নেই, মেলার মাঠ ফাঁকা পড়ে আছে। আগে কখনো এমন প্রাণহীন মেলা দেখিনি। বেচাকেনা এত কম যে প্রতিদিনের খরচ তুলতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে।’

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রিপা রানী চৌহান বলেন, ‘কৃষকদের আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচিত করানো এবং কৃষিতে নতুন উদ্ভাবন ছড়িয়ে দেওয়াই এই মেলার মূল উদ্দেশ্য। প্রথম দুই দিনে দর্শনার্থী তুলনামূলক কম থাকলেও আমাদের প্রচারণায় কোনো ঘাটতি ছিল না। পর্যাপ্ত মাইকিং এবং বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচারণা চালানো হয়েছে। মেলার শেষ দিনে কৃষক ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতি বাড়বে বলে আমরা আশাবাদী।"

তবে স্থানীয়দের মতে, মেলার পূর্বে ব্যাপক প্রচারণা, ইউনিয়ন পর্যায়ে সরাসরি কৃষকদের আমন্ত্রণ জানানো এবং স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মেলা পরিদর্শনে সম্পৃক্ত করা হলে সরকারের এমন একটি চমৎকার ও গুরুত্বপূর্ণ আয়োজন আরও প্রাণবন্ত এবং সফল হতে পারত।