স্কোরবোর্ডে তখন ০-২। মাঠজুড়ে ফরাসি জার্সিগুলো যেন আরও ভারী হয়ে উঠছিল প্রতি মিনিটে। কিলিয়ান এমবাপ্পে, উসমান দেম্বেলে, মাইকেল ওলিসেদের মতো তারকাখচিত আক্রমণভাগ পুরো ম্যাচে ঠিকমতো বল ছুঁতেই পারছিল না। স্পেনের নিখুঁত পজিশন ফুটবলের সামনে ফ্রান্স নিজেদের চেনা ছন্দ হারিয়ে ফেলে। ডাগআউটে দাঁড়িয়ে দিদিয়ের দেশম বুঝে যান, এটাই বোধহয় তার সবচেয়ে তিক্ত সন্ধ্যা। সেমিফাইনালের বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই শেষ হয়ে গেল একটা যুগ। ১৪ বছর, ১৮৪ ম্যাচ, একটা বিশ্বকাপ শিরোপা, দুটি ফাইনাল আর একটি ইউরোর ফাইনাল। দেশমের অধ্যায় থামল ঠিক এখানেই। বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থাননির্ধারণী নামের একটি নিয়ম রক্ষার ম্যাচে শেষবারের মতো ফ্রান্সের ডাগআউটের সামনে দাঁড়াবেন তিনি। এখান থেকেই শুরু হচ্ছে আরেকটি অধ্যায়, যার নায়ক হতে চলেছেন আরেক ফরাসি কিংবদন্তি জিনেদিন জিদান।
জিদানের প্রথম বড় লক্ষ্য হবে নতুন প্রজন্মকে নিয়ে একটা ভারসাম্যপূর্ণ দল গড়া। ২০২৮ ইউরো হবে তার প্রথম বড় মঞ্চের পরীক্ষা, দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য অবশ্যই ২০৩০ বিশ্বকাপ। সুবিধা একটাই, খেলোয়াড়ের অভাব নেই। মাইক মেনিয়াঁ, উইলিয়াম সালিবা, দয়োত উপামেকানো, জুল কুন্দে, ইব্রাহিমা কোনাতে, অরেলিয়েন চুয়ামেনি, ওয়ারেন জাইরে-এমেরির মতো বিশ্বমানের তারকারা ফ্রান্সের জার্সিতে খেলেন। তবে সময় থেমে থাকে না, ন’গোলো কান্তে, থিও হার্নান্দেজ ও লুকাস হার্নান্দেজের মতো অভিজ্ঞদের বিদায়ের ঘণ্টাও বাজতে পারে যেকোনো সময়। বিশেষ করে কান্তের শূন্যস্থান পূরণ করা সহজ হবে না। তবে কামাভিঙ্গা, ইয়োরো, এমেরি, কোনের মতো তরুণরা তৈরি হচ্ছেন এ জায়গা পূরণ করার জন্য।
আক্রমণভাগ নিয়ে দুশ্চিন্তার কারণ নেই। এমবাপ্পে, দেম্বেলে, ওলিসের সঙ্গে ব্র্যাডলি বারকোলা, রায়ান শেরকি ও দেজিরে দুয়ে নিয়মিত আলো ছড়াচ্ছেন। প্রতিভার এমন সমাহার বিশ্বের খুব কম দলেরই আছে। এমবাপ্পে তো আগামী কয়েক বছর বিশ্ব ফুটবলে রাজত্ব করতে চলেছেন। ২০৩০ বিশ্বকাপে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ড ভাঙার অন্যতম দাবিদার তিনিই। জিদানের অধীনে যারা এতদিন সুযোগের অপেক্ষায় ছিলেন, তাদের জন্য দরজা খুলে যেতে পারে এবার। রায়ান শেরকি কিংবা দেজিরে দুয়ের মতো খেলোয়াড়রা নতুন কোচের পরিকল্পনায় বড় ভূমিকা পেতে পারেন। আসল প্রশ্ন একটাইÑ এত বিপুল প্রতিভাকে ঠিকঠাক কাজে লাগানো যাবে কি না।