টি-টোয়েন্টি সিরিজও হারে শুরু

আপডেট : ১৬ জুলাই ২০২৬, ০১:৩৮ এএম

এ যেন একই চিত্রনাট্যের পুনরাবৃত্তি। হারারেতে ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে বল হাতে তাণ্ডব চালান নাহিদ রানা। নিজের পাশাপাশি বাংলাদেশি বোলারদের মধ্যে ক্যারিয়ারসেরা বোলিংয়ে একাই ৬ উইকেট নেন। কিন্তু ১৪১ রানও তাড়া করতে পারেননি স্বাগতিকরা। গতকাল বুলাওয়েতে টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচেও দাপট দেখান এ ডানহাতি গতি তারকা। শেষ ওভারে ১৮ রান খরচ করলেও মাত্র ২৬ রানে ৪ উইকেট নেন। টি-টোয়েন্টিতে এটাই তার ক্যারিয়ারসেরা বোলিং। অথচ এবার ৩২ রানে হারে বাংলাদেশ। ১৭১ রানের টার্গেটে নেমে ব্যাটারদের ব্যর্থতায় ১৩৮ রানে থামে লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের ইনিংস।

অথচ টসের আগে উইকেট দেখে দুই ধারাভাষ্যকার এড রেইন্সফোর্ড ও আতহার আলী জানান, ১৮০ রান হলে পরে ব্যাট করা দল চ্যালেঞ্জের মধ্যে পড়বে। এমনিতেই এই মাঠে আগে ব্যাট করা দলের জয়ের রেকর্ড বেশি। তবু টস জিতে জিম্বাবুয়েকে ব্যাট করার আমন্ত্রণ জানান ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক তাওহিদ হৃদয়। ১৮০ করতে না পারলেও কাছাকাছি যান স্বাগতিকরা। তাতেই আরেকটি পরাজয়ের সাক্ষী হতে হলো সফরকারীদের। একমাত্র টেস্ট ও ওয়ানডে সিরিজ হারের পর টি-টোয়েন্টি সিরিজও হার দিয়ে শুরু হলো বাংলাদেশের। নাহিদের এমন বোলিংয়ের পর বিফলে ইয়াসির আলী রাব্বির ফিফটি।

জিম্বাবুয়েতে গিয়ে একের পর এক ম্যাচ হেরে আবার ব্যাটারদের কাঠগড়ায় তোলেন হৃদয়, ‘আমাদের কিছু বিষয় নিয়ে কাজ করতে হবে। এখানে তুলনামূলক ভালো কন্ডিশন। ব্যাটিংয়ের জন্য খুব ভালো উইকেট ছিল। কিন্তু ব্যাটিং ইউনিট হিসেবে আমরা ভালো করতে পারিনি। নাহিদ খুব ভালো বোলার। আমরা তার সামর্থ্য সম্পর্কে ভালোভাবেই জানি। যখন আমরা ১৭০-১৮০ রানের লক্ষ্য তাড়া করি, তখন শুরুতেই আমাদের একটি বা দুটি বড় জুটির প্রয়োজন। সেটা আমরা পারিনি।’

রান তাড়ায় শুরুতেই ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। ৩৪ রানে টপ অর্ডারের ৩ ব্যাটারকে হারায়। সাইফ হাসান ১২, তানজিদ হাসান ১৬ ও পারভেজ হোসেন ৫ রানে আউট হন। হৃদয় নিজেও দায়িত্ব নিতে পারেননি। ১৪ রানে সাজঘরে ফিরে দলের চাপ আরও বাড়িয়ে যান তিনি। পরের ওভারে নুরুল হাসান থামেন ৩ রান করে। ১১তম ওভারে ৭৮ রানে ৫ উইকেট হারানোর পর হাল ধরেন রাব্বি। প্রায় তিন বছর পর জাতীয় দলে ফিরে শেখ মেহেদী হাসানের সঙ্গে ৫২ রানের জুটি গড়েন। মেহেদী ১৯ রানে আউট হলে ফিফটি করে প্রত্যাবর্তন রাঙান রাব্বি। তবে এই মিডল অর্ডার ব্যাটার ৩৮ বলে ৫৪ রান করে সাজঘরে ফেরার সঙ্গে বাংলাদেশের জয়ের শেষ আশাটুকুও সঙ্গে করে নিয়ে যান। পরে স্বাগতিকরা অলআউট হয় ১৩৮ রানে।

এর আগে উদ্বোধনী জুটিতে ৩৭ রান তোলেন ব্রায়ান বেনেট ও টাডিওয়ানাশে মারুমানি (১৪) । চতুর্থ ওভারে প্রথমবার বল হাতে নিয়ে এই জুটি ভাঙেন নাহিদ। তবে পাওয়ার প্লের ৬ ওভারে ৫৪ রান করেন স্বাগতিকরা। দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে ডিওন মেয়ার্সকে (২০) সঙ্গে নিয়ে দলকে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন বেনেট। সাইফউদ্দিন ৩৮ রানের এ পার্টনারশিপকে বড় হতে দেননি। অন্য প্রান্তে ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে অর্ধশতকের দিকে ছোটেন বেনেট। আবার বল হাতে নিয়ে তাকে থামান নাহিদ। ইনিংস সর্বোচ্চ ৩০ বলে ৪৪ রানে আউট হন বেনেট। এরপর রায়ান বার্ল ছাড়া জিম্বাবুয়ের আর কোনো ব্যাটার থিতু হতে পারেননি।

অধিনায়ক সিকান্দার রাজা ২০ রান করে ফিরলে নিজের তৃতীয় ওভারে জোড়া আঘাত হানেন নাহিদ। মিল্টন শুম্বা ও তাশিঙ্গা মুসেকিয়াকে আউট করে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনাও তৈরি করেন। হ্যাটট্রিক করতে না পারলেও টি-টোয়েন্টিতে নিজের ক্যারিয়ারসেরা বোলিং করেন নাহিদ। শেষ দিকে বার্লের ২৫ বলে ৩০ রানের সঙ্গে ব্র্যাড ইভান্সের ১০ বলে ১৯ রানের ইনিংসের সৌজন্যে চ্যালেঞ্জিং পুঁজি পায় জিম্বাবুয়ে, যা টপকাতে ব্যর্থ হয় বাংলাদেশের ব্যাটাররা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত