ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনদের হয়রানি এবং প্রতারণার অভিযোগে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ১৪ জনকে আটক করা হয়েছে। পরে তাদের বিরুদ্ধে অর্থদণ্ড ও বিভিন্ন মেয়াদের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত র্যাব-১৪, ময়মনসিংহের কোম্পানি কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সামসুজ্জামানের নেতৃত্বে এবং র্যাব ফোর্সেস সদর দপ্তরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আবু হাসানের নেতৃত্বে গঠিত ভ্রাম্যমাণ আদালত হাসপাতাল চত্বরে এ অভিযান পরিচালনা করেন।
র্যাব জানায়, অভিযানে সাধারণ রোগীদের সরলতার সুযোগ নিয়ে অর্থ আত্মসাৎ ও প্রতারণার সঙ্গে জড়িত অভিযোগে ১৪ জনকে হাতেনাতে আটক করা হয়। পরে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ এবং দণ্ডবিধির (পেনাল কোড) ১৮৮ ধারায় তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালত চারজনকে পাঁচ হাজার টাকা করে এবং দুজনকে ১৫ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড প্রদান করেন। এছাড়া আটজনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এর মধ্যে একজনকে তিন দিনের, একজনকে ২০ দিনের, একজনকে এক মাসের, চারজনকে দুই মাসের এবং একজনকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
র্যাবের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমকে জানানো হয়, আটক ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালের জরুরি বিভাগ, বহির্বিভাগ ও প্যাথলজি ল্যাবের আশপাশে অবস্থান করে রোগীদের বিভ্রান্ত করতেন। তারা বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে চিকিৎসা নিতে আসা দরিদ্র ও অসহায় রোগীদের উন্নত ও দ্রুত চিকিৎসার আশ্বাস দিয়ে কম খরচে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও অস্ত্রোপচারের প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে যেতেন। এর মাধ্যমে রোগীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।
র্যাব-১৪ আরও জানায়, হাসপাতাল এলাকায় দালাল চক্রের তৎপরতা বন্ধ করে সাধারণ রোগীদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্নে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।