রাজধানীতে মাছ, মুরগি ও ডিমের দামে ঊর্ধ্বমুখী

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে টানা বৃষ্টি ও বন্যার প্রভাবে রাজধানীর কাঁচাবাজারে বেড়েছে মাছ, মুরগি ও ডিমের দাম। বেড়েছে শাক-সবজির দামও। সরবরাহ কমে যাওয়া ও পরিবহন ব্যাহত হওয়াকে এর কারণ হিসেবে উল্লেখ করছেন ব্যবসায়ীরা। 

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) ঢাকার কারওয়ান বাজার, টাউনহল কাঁচাবাজারসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গত এক সপ্তাহে যেখানে ডিম ১১০-১২০টাকা ডজন বিক্রি হচ্ছিল সেখানে গতকাল এর দাম হয় ১২০-১৪০টাকা। এছাড়া আগে ৪০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হওয়া অনেক সবজির দাম বেড়ে ৬০ থেকে ৮০ টাকায় পৌঁছেছে। গত সপ্তাহেও ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজিতে বিক্রি হওয়া কাঁচা মরিচ এখন মানভেদে ১৬০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

কারওয়ান বাজারের ডিম বিক্রেতা মানিক বলেন, পাইকারি বাজারে দাম বেড়ে যাওয়ায় খুচরা বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে। ফলে আগের তুলনায় প্রতি ডজনে ১০ থেকে ১৫ টাকা বেশি দামে ডিম বিক্রি করতে হচ্ছে।

এদিকে স্বস্তি নেই মাছের বাজারেও। পাঙাশ মাছ কেজিপ্রতি সাইজভেদে ২০০ থেকে ২৫০ টাকা, মাঝারি ও বড় সাইজের তেলাপিয়া কেজি ২২০ থেকে ৩০০ টাকা, রুই সাইজভেদে ২৫০ থেকে ৪৫০ টাকা, কার্প মাছ ২৬০ থেকে ২৫০টাকা, কাতল ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা, ট্যাংরা ৬০০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ভেটকি মাছের কেজি ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, চাষের কই মাছ ২০০ থেকে ২৫০ টাকা, পাবদা ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। চিংড়ি সাইজভেদে ৭০০ থেকে ১৫০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া, মলা মাছ ৩০০-৪০০টাকা কেজি ধরে বিক্রি হচ্ছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ৩০-৫০টাকা বেড়েছে। 

বেড়েছে মুরগির দামও। ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৯০ থেকে ২০০ টাকা কেজিতে, যা গত সপ্তাহে ছিল ১৬৫ থেকে ১৮০ টাকা। সোনালি মুরগি জাতভেদে ৩২০ থেকে ৩৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা আগে ছিল ২৯০ থেকে ৩৩০ টাকা।

বিক্রেতারা বলছে, বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি এবং বিভিন্ন অঞ্চল থেকে সরবরাহ স্বাভাবিক হলে মাছ ও সবজির দাম কিছুটা কমতে পারে। তবে আপাতত বাজারে স্বস্তি ফেরার সম্ভাবনা কম।