৭৩ পেরিয়ে কিংবদন্তি ডলি জহুর

পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে অনন্য অভিনয়শৈলীতে দর্শকদের বুঁদ করে রেখেছেন কিংবদন্তি অভিনেত্রী ডলি জহুর। আজ ১৭ জুলাই গুণী এই শিল্পীর জন্মদিন। ১৯৫৩ সালের এই দিনে ঢাকার গ্রিন রোডে জন্ম নেওয়া এই চিরসবুজ অভিনেত্রীকে ‘দেশ রূপান্তর’-এর পক্ষ থেকে আন্তরিক শুভেচ্ছা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগে পড়ার সময় ঢাকা প্রাঙ্গণেই তার অভিনয়ের হাতেখড়ি। নাটকে নাম লেখানোর পর নাট্যব্যক্তিত্ব ম হামিদের হাত ধরে যুক্ত হন ‘নাট্যচক্র’ দলে। এরপর ‘কথক’ ও ‘বাংলা থিয়েটার’ হয়ে একসময় ‘আরণ্যক নাট্যদল’-এর অন্যতম চালিকাশক্তি হয়ে ওঠেন তিনি। মঞ্চের সেই দাপট আশির দশকে ডলি জহুরকে নিয়ে আসে টেলিভিশনে। হুমায়ূন আহমেদের ‘এইসব দিনরাত্রি’ নাটকে তার কালজয়ী অভিনয় তাকে পৌঁছে দেয় আমজনতার ড্রয়িংরুমে।

সোনালি পর্দার জগতেও তার পদচারণা ছিল সমান উজ্জ্বল। ‘আগুনের পরশমণি’, ‘বাবা কেন চাকর’, ‘শঙ্খনীল কারাগার’ কিংবা ‘ঘানি’র মতো অসংখ্য কালজয়ী চলচ্চিত্রে তার অভিনয় দাগ কেটেছে দর্শকের মনে। কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ পেয়েছেন দুবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার এবং ২০২১ সালে লাভ করেন আজীবন সম্মাননা। তবে তার মতে, দর্শকের নিঃশর্ত ভালোবাসাই তার জীবনের শ্রেষ্ঠ অর্জন।

পর্দার বাইরে ব্যক্তিগত জীবনটা মোটেও সহজ ছিল না। ১৯৭৬ সালে অভিনেতা জহুরুল ইসলামের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার পর ঘর আলো করে আসে একমাত্র সন্তান রিয়াসাত। ২০০৬ সালে স্বামীকে হারানোর পর কঠিন জীবনসংগ্রামের মুখোমুখি হন তিনি। বর্তমানে বছরের বেশির ভাগ সময় কাটে অস্ট্রেলিয়ায় প্রবাসী ছেলের সঙ্গে। রুপালি পর্দা থেকে অনেক আগেই বিদায় নিলেও, মনের মতো চরিত্র ও ভালো চিত্রনাট্য পেলে এখনো মাঝেমধ্যে ছোট পর্দায় দেখা মেলে প্রিয় এই মুখের।