সৌদিতে পড়ে আছে দুই ভাইয়ের মরদেহ, শোকে স্তব্ধ পরিবার

অভাব গোছাতে বিদেশে পাড়ি দিয়েছিলেন দুই ভাই। কিন্তু জীবিত নয়, তারা ফিরবেন কফিন বন্দি হয়ে। এখন বাবা-মা, স্ত্রী ও স্বজনদের একটাই অপেক্ষা শেষবারের মতো প্রিয় মুখ দুটি দেখে নিজ হাতে দাফন করার সুযোগ।

পুলিশ ও নিহতদের পরিবার জানায়, সৌদি আরবের দাম্মামে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়নের গলিপুর গ্রামের আব্দুল মালেকের দুই ছেলে আফতাব হোসেন সজীব ও ফরহাদ হোসেন সুজন। দুই ভাই সৌদি আরবে খেজুরের ব্যবসা করতেন। বিভিন্ন বাগান থেকে খেজুর সংগ্রহ করে বাজারজাত করতেন তারা। ১৫ জুলাই রাতে খেজুরবোঝাই একটি গাড়ি নিয়ে ফেরার পথে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রাক-লরির সঙ্গে সংঘর্ষ হলে ঘটনাস্থলেই তারা নিহত হন। বর্তমানে তাদের মরদেহ দাম্মামের একটি হাসপাতালে রাখা আছে।

স্বজনদের ভাষ্য, সংসারের অভাব দূর করতে ধারদেনা করে দুই ছেলেকে সৌদি আরবে পাঠিয়েছিলেন বাবা। স্বপ্ন ছিল, ছেলেদের উপার্জনে বদলে যাবে পরিবারের ভাগ্য। কিন্তু সেই স্বপ্ন ভেঙে গেছে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায়। দুই সন্তানের মৃত্যুসংবাদ পেয়ে বাবা আব্দুল মালেক ভেঙে পড়েছেন। পরিবারের প্রধান উপার্জনকারী ছিলেন দুই ভাই। তাদের মৃত্যুতে শুধু একটি পরিবার নয়, পুরো গ্রাম শোকাহত।

চন্দ্রগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোরশেদ আলম বলেন, মরদেহ দেশে আনার বিষয়ে পরিবার যদি কোনো ধরনের পুলিশি সনদ বা প্রশাসনিক সহযোগিতা প্রয়োজন মনে করে, তাহলে আমরা প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবো। এছাড়া সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে পরিবারের পাশে থাকার চেষ্টা করা হবে বলে জানান তিনি।