নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে আগামী রবিবার যখন স্পেন ও আর্জেন্টিনা বিশ্বসেরার লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে, তখন মাঠের সব খেলোয়াড়দের পাশাপাশি সবার চোখ থাকবে ম্যাচ পরিচালনাকারীর ওপরও। সেই প্রতীক্ষিত ফাইনালটি পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছেন স্লোভেনিয়ার অভিজ্ঞ রেফারি স্লাভকো ভিনচিচ। ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে বড় এই লড়াইয়ে নিরপেক্ষতা ও দক্ষতার কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন ৪৬ বছর বয়সী এই অভিজ্ঞ ম্যাচ অফিশিয়াল।
চলতি আসরের রেফারিং নিয়ে বেশ চাপের মুখেই পড়তে হয়েছে ফিফাকে। গ্রুপ পর্ব থেকে সেমিফাইনাল সবখানেই যেন এক অদৃশ্য বিতর্কের ছায়া লেগে ছিল। অতি সূক্ষ্ম ভিএআর এর সিদ্ধান্ত, পেনাল্টি নিয়ে অস্পষ্টতা এবং কার্ড দেওয়ার ক্ষেত্রে রেফারিদের অসামঞ্জস্যপূর্ণ আচরণ এর বিতর্ক ফুটবলপ্রেমীদের ক্ষোভের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রেফারির অনেক সিদ্ধান্তের কারণে ম্যাচের মোড় ঘুরে যাওয়ার অভিযোগ তুলেছে বিভিন্ন দেশ।
ভিনচিচের জন্য এই ফাইনালটি তার ফুটবল ক্যারিয়ারের অনন্য এক মাইলফলক। এর আগে ইউরোপিয়ান ক্লাব ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্বের আসর উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনাল পরিচালনা করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর ঝুলিতে। রিয়াল মাদ্রিদ ও বরুসিয়া ডর্টমুন্ডের সেই হাই-ভোল্টেজ ম্যাচে তার নিভৃত ও সাহসী রেফারিং ফুটবল মহলে প্রশংসিত হয়েছিল।
চলতি বিশ্বকাপে ভিনচিচ এখন পর্যন্ত তিনটি ম্যাচ পরিচালনা করেছেন। ব্রাজিল-মরক্কো, জর্ডান-আলজেরিয়া এবং মেক্সিকো-ইকুয়েডরের মতো ম্যাচগুলোতে তিনি নিজের সামর্থ্যরে প্রমাণ দিয়েছেন। টুর্নামেন্টের এই আসরে ৩ ম্যাচে তিনি ৭টি হলুদ কার্ড দেখিয়েছেন, আর মাঠের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে তার কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রবণতাও লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে ইকুয়েডরের সেই লাল কার্ডের ঘটনাটি ছিল ফিফার আইন নিয়ে কঠোরতারই এক রূপ।
ফাইনালে ভিনচিচের সঙ্গে সহকারী রেফারি হিসেবে থাকছেন স্বদেশি তোমাজ ক্লানচনিক ও আন্দ্রাজ কোভাচিচ। ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন জার্মানির বাস্তিয়ান ড্যানকার্ট। এছাড়া শনিবার অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ফ্রান্স ও ইংল্যান্ডের মধ্যকার তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচটি পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছেন ভেনিজুয়েলার হেসুস ভ্যালেনজুয়েলা।
বিশ্বসেরার শিরোপার লড়াইয়ের এই উত্তাপপূর্ণ ম্যাচে রেফারির প্রতিটি সিগন্যালই হবে ইতিহাসের অংশ। ফুটবল বিশ্ব এখন কেবল শিরোপার অপেক্ষায় নয়, অপেক্ষায় আছে এক বিতর্কহীন নিখুঁত ফাইনালে বাঁশির সুরের।