বিশ্বকাপের এবারের আসর শেষ হওয়ার প্রান্তে। বাকি কেবল দুটি ম্যাচ, তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ও ফাইনাল। সেই ফাইনালে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে মেটলাইফ স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে থাকছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। অন্যদিকে, আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি উপস্থিত থাকবেন না ফাইনালের মাঠে। খেলা দেখবেন নিজ সরকারি বাসভবনে বসে।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি কারিন জ্যঁ-পিয়েরে নিশ্চিত করেছেন, এই ফাইনাল দিয়েই বিশ্বকাপে নিজের প্রথম সরাসরি উপস্থিতি নিশ্চিত করতে যাচ্ছেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘টুর্নামেন্টের সফল আয়োজক হিসেবে আমেরিকার সামর্থ্য প্রদর্শনের একটি উপযুক্ত সমাপ্তি হবে ট্রাম্পের এই উপস্থিতি।’ ট্রফি জয়ী দলের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। তবে ফাইনালের ট্রাম্প মঞ্চে কোন দলকে সমর্থন দেবেন, তা নিয়ে স্পষ্ট কিছু জানাননি তিনি।
আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট মিলেইয়ের ক্ষেত্রে প্রেক্ষাপটটা সম্পূর্ণ ভিন্ন। তার এই অনুপস্থিতির পেছনে লুকিয়ে আছে আর্জেন্টাইন ফুটবলের দীর্ঘদিনের এক আবেগি সংস্কৃতি, ‘ক্যাবালাস’। অনেকে এটি কুসংস্কার হিসেবে মানলেও লাতিন এই দেশটির কাছে এটি জয়ের প্রতি এক গভীর বিশ্বাস ও ইতিবাচক আচার-অনুষ্ঠান, যা দলকে অনুপ্রেরণা জোগায় বলে তারা বিশ্বাস করে।
নিজের সরকারি বাসভবন থেকে খেলা দেখার সিদ্ধান্ত নিয়ে মিলেই স্থানীয় রেডিও স্টেশন ‘এল অবজারভাদর’-কে বলেন, ‘সবগুলো ম্যাচ আমি এখান থেকেই দেখেছি এবং প্রতিটিতেই জয় এসেছে। এই ধারাবাহিকতায় আমি কোনো পরিবর্তন আনতে চাই না।’ নিজের পোশাকের বিশেষ রীতির কথা বলতে গিয়ে তিনি যোগ করেন, ‘শীতের দিনে আমি একটি নির্দিষ্ট ভারী জ্যাকেট পরে ম্যাচ দেখছি। একবার সেটি খোলার পরপরই আমরা গোল খেয়েছিলাম, সেই থেকে জ্যাকেটটি আর খুলিনি।’
আর্জেন্টাইন প্রেসিডেন্টের এই সাবধানতার পেছনে রয়েছে ১৯৯০ সালের তিক্ত অভিজ্ঞতা। তৎকালীন প্রেসিডেন্ট কার্লোস মেনেম মাঠে যাওয়ার পর তাদের দল হেরেছিল। সেই থেকে তাকে ‘মুফা’ (এক ধরণের অশুভ বা দুর্ভাগ্য বয়ে আনা ব্যক্তি) তকমা দেওয়া হয়। সেই দুর্নাম এড়াতে পরবর্তীতে কোনো আর্জেন্টাইন প্রেসিডেন্ট বড় কোনো ম্যাচে মাঠে উপস্থিত হওয়ার ঝুঁকি নেন না।
একদিকে ট্রাম্পের উপস্থিতিতে ফাইনাল মঞ্চের আভিজাত্য, অন্যদিকে মিলেইয়ের অটল ব্যক্তিগত বিশ্বাস; বিশ্বকাপের এই বিদায়ী আয়োজনে দুই রাষ্ট্রপ্রধানের ভূমিকা ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে। ফুটবল মাঠের লড়াই ছাপিয়ে তাই এটি এখন বিশ্ব ফুটবলের সমাপনী আয়োজনে আলোচনার এক নতুন অনুষঙ্গ।
বিশ্বকাপ ফাইনালের বাঁশি স্লোভেনিয়ান রেফারির হাতে