দীর্ঘ ১৫ বছরের দাম্পত্যজীবনের ইতি টানলেন মারাঠি চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় তারকা দম্পতি আদীনাথ কোথারে ও ঊর্মিলা কানেটকর। গতকাল বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে তারা পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে আলাদা হওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানান।
একই সঙ্গে এই কঠিন সময়ে তাদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তার প্রতি সম্মান জানাতে সবার প্রতি অনুরোধ করেছেন।
যৌথ বিবৃতিতে আদীনাথ ও ঊর্মিলা বলেন, অনেক ভাবনাচিন্তার পর তারা বন্ধুত্বপূর্ণ ও সম্মানজনকভাবে নিজেদের পথ আলাদা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে তাদের দাম্পত্যের ইতি ঘটলেও মেয়ে জিজাহই তাদের জীবনের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হয়ে থাকবে।
তারা লিখেছেন, ‘আমাদের দাম্পত্যের পথচলা শেষ হলেও মেয়ে জিজাহর প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতা অটুট।
আমরা দুজনই যৌথভাবে তার লালন-পালন করব, যাতে সে ভালোবাসা, নিরাপত্তা ও সমর্থনের পরিবেশে বড় হতে পারে।’
বিবৃতিতে আরো জানানো হয়, একসঙ্গে কাটানো দীর্ঘ সময়ের স্মৃতি ও সম্পর্কের প্রতি তাদের গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে। পাশাপাশি সংবাদমাধ্যম এবং ভক্তদের কাছ থেকে এতদিন যে ভালোবাসা ও সমর্থন পেয়েছেন, ভবিষ্যতেও সেটি অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন তারা।
বিবৃতির শেষে তারা বলেন, ‘আমাদের বন্ধু, সংবাদমাধ্যম এবং সবার কাছে অনুরোধ, এই সময়ে আমাদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তাকে সম্মান করুন।
এ বিষয়টি নিয়ে এটিই আমাদের একমাত্র বক্তব্য। এরপর আর কোনো মন্তব্য করব না। আপনাদের উষ্ণতা ও বোঝাপড়ার জন্য ধন্যবাদ।’
গত কয়েক মাস ধরেই আদীনাথ ও ঊর্মিলার দাম্পত্যে দূরত্ব তৈরি হওয়ার গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিল। ২০২৫ সালের শেষ দিকে বিভিন্ন ভারতীয় গণমাধ্যমে তাদের আলাদা থাকার খবর প্রকাশিত হলেও তখন এ বিষয়ে মুখ খোলেননি কেউই।
এর আগে এক সাক্ষাৎকারে ঊর্মিলা জানিয়েছিলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ‘বিষাক্ত’ আলোচনায় তিনি গুরুত্ব দেন না। একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, অনলাইনে প্রচারিত সব তথ্য বিশ্বাস করা উচিত নয়।
২০০৬ সালে ‘শুভ মঙ্গল সাবধান’ সিনেমার শুটিংয়ের সময় প্রথম পরিচয় হয় আদীনাথ কোথারে ও ঊর্মিলা কানেটকরের। ছবিটি পরিচালনা করেছিলেন আদীনাথের বাবা মহেশ কোথারে। ওই সিনেমার মাধ্যমেই অভিনয়ে অভিষেক হয় ঊর্মিলার। দীর্ঘ প্রেমের পর ২০১১ সালে বিয়ে করেন এই তারকা জুটি। ২০১৮ সালে তাদের কন্যাসন্তান জিজাহর জন্ম হয়।
অভিনয়জীবনে ঊর্মিলা ‘দুনিয়াদারি’, ‘মালা আই ভ্হায়চি!’ ও ‘তি সধ্যা কায় কারতে’সহ একাধিক জনপ্রিয় মারাঠি চলচ্চিত্রে অভিনয় করে প্রশংসা কুড়িয়েছেন। পাশাপাশি হিন্দি ও তেলেগু চলচ্চিত্রেও কাজ করেছেন তিনি। অন্যদিকে আদীনাথ কোথারে অভিনেতা, পরিচালক ও প্রযোজক—তিন ভূমিকাতেই মারাঠি চলচ্চিত্রে নিজস্ব অবস্থান তৈরি করেছেন।
বর্তমানে আদীনাথের হাতে রয়েছে বেশ কয়েকটি আলোচিত প্রকল্প। পরিচালক নীতেশ তিওয়ারির বহুল প্রতীক্ষিত ‘রামায়ণ’ সিনেমায় তিনি ভারত চরিত্রে অভিনয় করছেন। এ ছাড়া হানসাল মেহতার ‘গান্ধী টকস’ সিনেমাতেও দেখা যাবে তাকে।