ওপেনিংয়ে ১৫ ওভারে ১২০, তবুও জিতে খুশী বাংলাদেশ

৫ বছর পর জিম্বাবুয়েতে পূর্ণাঙ্গ সিরিজ খেলতে গেছে বাংলাদেশ দল। সফরের শেষদিকে এসে ছন্দে ফিরেছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। আজ তিন ম্যাচ সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে স্বাগতিকদের হেসেখেলে হারান তাওহীদ হৃদয়রা।

৩৪ রানের জয়ে সিরিজে সমতা ফিরিয়েছে বাংলাদেশ। যেখানে আগে ব্যাট করে সাইফ হাসান ও তানজিদ হাসান তামিমের ফিফটির সঙ্গে মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের রেকর্ডগড়া ঝোড়ো ব্যাটিংয়ের সৌজন্যে ৫ উইকেটে ১৮৬ রান তোলে সফরকারীরা। বিশাল লক্ষ্য তাড়ায় ১৫২ রানে অলআউট হয় জিম্বাবুয়ে। আগামী রবিবার সিরিজের শেষ ম্যাচটি অলিখিত ফাইনালে রূপ নিয়েছে।

বুলাওয়েতে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে তামিম-সাইফের উদ্বোধনী জুটিতে ১২০ রান তোলে বাংলাদেশ। যা তাদের ওপেনিং জুটিতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান। তবে ভাগ্য সহায় ছিল দুজনেরই। সাইফ একাই ৫ বার জীবন পান। এর মধ্যে ৩ বারই এই ওপেনারের ক্যাচ ছাড়েন মিল্টন শুম্বা! তবে এতবার সুযোগ পেয়েও নিজেকে পুরোপুরি মেলে ধরতে পারেননি তিনি। ফিফটি পূর্ণ করলেও ৪৫ বলে ৫৫ রানে আউট হন সাইফ। ওপেনিং জুটি ভাঙলে বাংলাদেশের ব্যাটিং বিভাগে ধস নামে। ২১ রানের মধ্যে হারায় ৫ উইকেট।

সাইফের পরের ওভারেই আউট হন একবার জীবন পাওয়া তামিম। ফিফটি করে তিনিও নিজের ইনিংসটাকে বেশি বড় করতে পারেননি। থামেন ৪৪ বলে ৫৮ রানে। এরপর একে একে সাজঘরে ফেরেন হৃদয় (৬), পারভেজ হোসেন (১) ও নুরুল হাসান সোহান (৪)। তবে প্রথম টি-টোয়েন্টির মতো আজও হাল ধরেন ইয়াসির আলী রাব্বি। শেষ দিকে তার ১২ বলে ২২ রানের ঝোড়ো ইনিংসের সঙ্গে শেষ ওভারে ব্র্যাড ইভান্সকে ৪ ছক্কা হাঁকানো সাইফউদ্দিনের ১০ বলে অপরাজিত ৩১ রানের সৌজন্যে চ্যালেঞ্জিং পুঁজি পায় বাংলাদেশ। প্রথম বাংলাদেশি ব্যাটার হিসেবে কোনো নির্দিষ্ট ওভারে চারটি ছক্কা হাঁকানোর কীর্তি গড়েন সাইফউদ্দিনের। ওই ওভারে সব মিলিয়ে ২৮ রান নেন তিনি। যা এক ওভারে বাংলাদেশি ব্যাটারদের নেওয়া সর্বোচ্চ রানের রেকর্ডও।

জবাব দিতে নেমে বিপাকে পড়ে জিম্বাবুয়ে। ইনিংসের প্রথম ওভারেই আঘাত হানেন অফ স্পিনার শেখ মেহেদী হাসান। টাডিওয়ানাশে মারুমানি ৪ রানে আউট হন। দ্বিতীয় ওভারে আরেক ওপেনার ব্রায়ান বেনেটকে (১১) থামান নাহিদ রানা। তৃতীয় ওভারে মেহেদীর দ্বিতীয় শিকারে পরিণত হন ডিওন মেয়ার্স (৪)। ২১ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে স্বাগতিকরা। মিল্টন শুম্বা ও অধিনায়ক সিকান্দার রাজার জুটি থেকে আসে ৪৪ রান। ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে তাণ্ডব চালানো রাজাকে (১২ বলে ২৮) আউট করে এই জুটি ভাঙেন একাদশে ফেরা রিশাদ হোসেন।

এরপর আবারও ধস নামে জিম্বাবুয়ের ব্যাটিং বিভাগে। বাংলাদেশি বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে সুবিধা করতে পারেননি শুম্বা (১৯) ও ক্লাইভ মাডান্ডে (১)। যদিও চেষ্টা করেছিলেন রায়ান বার্ল। তবে পরাজয়ের ব্যবধান কমানো ছাড়া কাজে আসেনি তার ১৯ বলে ২৯ ও ইভান্সের ১৪ বলে ২৫ রানের ইনিংসটি। বাংলাদেশের হয়ে সার্বাধিক ৪টি উইকেট নেন লেগ স্পিনার রিশাদ। তবে শঙ্কা বাড়াচ্ছে নাহিদের চোট। নিজের তৃতীয় ওভার বল করতে এসে একটি গতিময় থ্রো এড়াতে হুট করে বসে পড়তে গিয়ে কোনোভাবে চোট পান এই গতি তারকা। এরপর ফিজিওর সঙ্গে মাঠ ছাড়লেও আর ফেরেননি তিনি।